• ঢাকা
  • ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১৭ সেকেন্ড পূর্বে
প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ২১ জুলাই, ২০২৬, ০৯:১৬ সকাল

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর: মানসিক ট্রমায় অনেক শিক্ষার্থী

ছবি: সংগৃহীত

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। গত বছরের ২১ জুলাই উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দার আলী একাডেমিক ভবনে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ৩৫ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ২৮ জন শিক্ষার্থী, তিন জন শিক্ষক, তিন জন অভিভাবক ও বিমানের একজন পাইলট।

আহত ১৭৫ জনের মধ্যে শিক্ষার্থী ৬৩ জন। আহতরা দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে ক্লাসে ফিরলেও অধিকাংশই এখনো স্বাভাবিকে ফিরে আসতে পারেনি। ছোট কোমলমতি শিক্ষার্থী যারা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন, আজও তাদের বুকের ভিতর শূন্যতা আর হাহাকার। হূদয়ে রক্তক্ষরণ থামলেও দগদগে বিষাদের সেই ক্ষণ, আকাশ থেকে নেমে আসা আগুনের লেলিহান শিখা, আর্তনাদ, বন্ধুদের হারানোর শোকসহ চোখের সামনে ঘটে যাওয়া বিভীষিকাময় সেই দুঃসহ স্মৃতি এখনো তাড়া করে বেড়াচ্ছে অনেক শিক্ষার্থীকে।

অভিভাবকরা বলেন, আহত শিক্ষার্থীরা সবকিছুতেই এখন বিরক্ত দেখায়, হঠাত্ রেগে যায়। আকাশে বিমানের আওয়াজ শুনলে এখনো অনেকে আতঙ্কে শিউরে ওঠে ও কান চেপে ধরে। বেশির ভাগই ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারছে না, আবার কেউ মাঝ রাতে ঘুমের মধ্যে কেঁদে উঠছে। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর শিশুদের মনে গভীর মানসিক আঘাত বা ট্রমা তৈরি হয়েছে, যা তারা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। কেবল শারীরিক চিকিৎসাই যথেষ্ট নয় বরং দীর্ঘমেয়াদি মানসিক পুনর্বাসন ও কাউন্সেলিং সেবা শিশুদের স্বাভাবিক শৈশবে ফিরিয়ে আনতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের জন্য এখনো কাঁদেন স্বজন, সহপাঠী ও শিক্ষকরা। আর যারা সেদিন মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরেছেন, তাদের জীবন চলছে এক অজানা আতঙ্কে। এতদিনেও বিভীষিকাময় সেই দৃশ্য এখনো অনেকের কাছে ধূসর স্মৃতি।

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির পর বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা পেলেও হতাহতের পরিবার সরকারের পক্ষ থেকে কোন আর্থিক সহায়তা পায়নি। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ লাখ ও আহতদের ৫ লাখ করে টাকা দিতে চেয়েছিল। কিন্তু এটা খুবই সীমিত সহায়তা হিসেবে আখ্যায়িত করে অভিভাবকরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। এ প্রসঙ্গে সানজিদা বেলায়েত বলেন, অভিভাবকদের পক্ষ থেকে গত ১৭ জুন প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত্ চেয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো সাক্ষাত্ পাইনি।

গত ২১ জানুয়ারি ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেছিল। সেদিন তারেক রহমান বলেছিলেন, তিনি সরকার গঠন করতে পারলে তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করবেন। সানজিদা বেলায়েত বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ এক বছর অতিবাহিত হলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য স্থানীয় কোন পুনর্বাসন পরিকল্পনা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমানে আহত শিশুরা দগ্ধজনিত জটিলতা, প্লাস্টিক সার্জারি ও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ট্রমার কারণে মানবেতন জীবন যাপন করছে।’ 

প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের জন্য লিখিত আবেদনে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে শহীদ ও আহতদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো—শহীদ পরিবারের সুরক্ষায় ও আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনে পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দ্রুত হাইকোর্টের রিটের বাস্তবায়ন। আহতদের জন্য আজীবন বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও সিএমএইচ থেকে বিশেষ মেডিক্যাল কার্ডের ব্যবস্থা করা। নিহতদের রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদি মর্যাদা ও সনদ প্রদান করা। ২১ জুলাইকে ‘জাতীয় শিক্ষা শোক দিবস’ ঘোষণা এবং শহীদদের স্মরণে উত্তরায় একটি মসজিদ নির্মাণ করতে হবে।

নিয়মিত ক্লাস করছে ইউসা: দুর্ঘটনায় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নূরে জান্নাত ইউসার শরীরের ১০ শতাংশ পুড়ে যায়। গত বছরের ২২ জুলাই তাকে বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। ঐ বছরের ১১ আগস্ট হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরেন। এখন নিয়মিত ক্লাস করছে ইউসা। ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে ইউসা বলে, একসময় পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখত সে, এখন বিমান উড়ে গেলেই ভয় পেয়ে দুই হাত দিয়ে কান চেপে ধরে সে, আর পাইলট হওয়ার ইচ্ছা নেই তার।

সেদিন কি দেখেছিল শিক্ষার্থীরা: ২০২৫ সালের ২১ জুলাই সোমবার সকালটা ছিল একদমই সাধারণ। কলেজের প্রজেক্ট-২ ভবনের প্রতিটি কক্ষে তখন চলছিল পাঠদান। তৃতীয় শ্রেণির ক্লাসরুমে বসে ছিল শিশু শিক্ষার্থীরা। পরনে ইউনিফর্ম আর বইভরা ব্যাগ। এক হাতে খাতা, অন্য হাতে কলম। দুপুর ১টায় ছুটি হয়। বিমান বাহিনীর এফ-৭ বিজেআই প্রশিক্ষণ বিমানটি ঢাকার বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীর-উত্তম এ কে খন্দকার থেকে বেলা ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়ন করে। ১টা ১৮ মিনিটে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দার আলী একাডেমিক ভবনে বিধ্বস্ত হয়।

এক মুহূর্তে পালটে যায় সব কিছু। হতবিহ্বল ও দিশাহারা হয়ে শিক্ষার্থীদের দিগ্বিদিক ছুটোছুটি, চিত্কার, কান্না, ধোঁয়া, ধুলোয় ভরে যায় স্কুল। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এর মধ্য থেকে একের পর এক দগ্ধ শিক্ষার্থী বের করে আনা হয়। বিধ্বস্ত প্লেনটি ছিটকে প্রাইমারি শিক্ষার্থীদের ভবনের সিঁড়ির সামনে চলে যায়। বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটির ‘নাক’ ঢুকে যায় ভবনের সিঁড়ির অংশে, আর এর দুই পাখার আঘাতে পুড়ে ছাই হয় শিশুদের দুটি ক্লাসরুম।

বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাত্ দেখি আগুন ধরা প্লেনটা আমাদের বিল্ডিংয়ে আঘাত করছে। আমার এক বন্ধুই আমার চোখের সামনে মারা গেছে। এই দৃশ্য ভুলতে পারছি না।’ ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারের শিক্ষার্থী হাসবিয়া রহমান আঝরা জানান, ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার সময় তারা ক্লাসে ছিল। চারপাশ কেঁপে ওঠা বিকট শব্দ, আগুনে পুড়ে যাওয়া মানুষ আর বাচ্চাদের করুণ আর্তনাদ—এই সবই তিনি নিজের চোখে দেখেছেন। এখন বিমানের শব্দ শুনলে সেই ভয়াবহ স্মৃতি তার মনে পড়ে যায়। 

ট্রমা কাটাতে বিশেষ পুনর্বাসনের উদ্যোগ: শিক্ষার্থীদের এই গভীর মানসিক ক্ষত ও ট্রমা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে বেশ কিছু বেসরকারি ও সামাজিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোটারি ক্লাব অব বনানী ঢাকা এবং ছুটি রিসোর্টের যৌথ উদ্যোগে গাজীপুরের পুবাইলে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশেষ ‘মেন্টাল হিলিং’ বা মানসিক নিরাময় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম পরিবেশ থেকে দূরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তারা দিনভর মেডিটেশন, ছবি আঁঁকা, ফুটবল খেলা এবং উন্মুক্ত কাউন্সেলিং সেশনে অংশ নেয়। নিহত সহপাঠীদের স্মরণে এবং শোককে শক্তিতে রূপান্তর করতে এই নিরাময় অনুষ্ঠানে চারাগাছ রোপণ করা হয়।

নিহতদের স্মরণ, আহতদের সুস্থতা কামনা: মাইলস্ট্রোন ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণ এবং আহত ব্যক্তিদের সুস্থতা কামনায় দোয়া ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির দিয়াবাড়ী ক্যাম্পাসে এই দোয়া ও স্মরণসভা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

কলেজটির অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের স্মরণ করতে এখানে হাজির হয়েছে। তারা নিহত সবার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে। শিক্ষার্থীসহ যারা এ ঘটনায় আহত হয়েছেন, তাদের সুস্থতা কামনা করছে।

দুর্ঘটনাস্থলটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে আজ: এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণ এবং আহত ব্যক্তিদের প্রতি সংহতি জানাতে দুই দিনের কর্মসূচি নিয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। এর অংশ হিসেবে দুর্ঘটনাস্থলটি আজ মঙ্গলবার সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে বলে জানান অধ্যক্ষ।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনাস্থলে স্কাউট ও রোভার সদস্যরা গার্ড অব অনার দেবেন। নিহত ব্যক্তিদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে। এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে। দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। স্মৃতিচারণার আয়োজন থাকবে। পাশাপাশি নিহত ব্যক্তিদের ছবি, বন্ধুদের লেখা স্মৃতিকথা ও বিভিন্ন বার্তা প্রদর্শন করা হবে। আজকের আয়োজনে অভিভাবকেরাও উপস্থিত থাকবেন।

রোহান/সা.এ.

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:


BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]