জুলাই আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নে শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ দ্রুত কার্যকরের দাবি এবং দোকান কর্মচারীদের জন্য নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, বেতন কাঠামো ও চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহবান জানিয়ে সমাবেশ করে বাংলাদেশ দোকান কর্মচারী ফেডারেশন।
গতকাল মঙ্গলবার ২১ জুলাই ২০২৬ইং বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলরুমে বাংলাদেশ দোকান কর্মচারী ফেডারেশন আয়োজিত দোকান কর্মচারী ও হকার শ্রমিক সমাবেশে স্রমিকের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি স্রমিকের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়া হকার উচ্ছেদ বন্ধের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটির নেতারা।
এস এম লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান। এতে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি মাওলানা মুহিবুল্লাহসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনে শ্রমিকদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হলে শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি; বৈষম্য ও বঞ্চনা এখনও রয়ে গেছে।
দোকান কর্মচারীদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে আতিকুর রহমান বলেন, দেশে প্রায় ৯২ লাখ দোকান কর্মচারী রয়েছেন, যাদের অধিকাংশেরই নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র নেই। নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা না থাকায় অনেককে ১২ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় কাজ করতে হয়। অনেক প্রতিষ্ঠান সাপ্তাহিক ছুটিও দেয় না। তিনি অবিলম্বে দোকান কর্মচারীদের জন্য নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, বেতন কাঠামো এবং চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
হকারদের বিষয়ে তিনি বলেন, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ও যথাযথ নোটিশ ছাড়া উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা উচিত নয়। উচ্ছেদের নামে অনেক ক্ষেত্রে চাঁদাবাজির সুযোগ সৃষ্টি হয়। হকারদের আইনি স্বীকৃতি দিয়ে তাদের জীবিকার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিকল্প নেই।
কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লসকর মো. তসলিম বলেন, শ্রমিকদের ওপর বৈষম্য, শোষণ ও নির্যাতন এখনও অব্যাহত রয়েছে। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর