ব্যস্ততা, কাজের চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন আর মানসিক উদ্বেগ—আধুনিক জীবনের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে এসব। অন্যের জন্য সময় দিতে গিয়ে অনেকেই নিজের শরীর ও মনের যত্ন নিতে ভুলে যান। অথচ সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য নিজের যত্ন নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই বার্তাই ছড়িয়ে দিতে প্রতি বছর ২৪ জুলাই বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক সেলফ-কেয়ার দিবস (International Self-Care Day)।
এই দিবসের মূল ধারণা হলো—দিনের ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহের ৭ দিন (২৪/৭) নিজের সুস্থতার প্রতি সচেতন থাকা। কেবল অসুস্থ হলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই নয়, বরং প্রতিদিন এমন জীবনধারা গড়ে তোলা, যা শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
সেলফ-কেয়ার আসলে কী?
সেলফ-কেয়ার বলতে নিজের শারীরিক, মানসিক, আবেগীয় ও সামাজিক সুস্থতা বজায় রাখতে সচেতনভাবে নেওয়া ছোট ছোট পদক্ষেপকে বোঝায়। এটি বিলাসিতা নয়; বরং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার একটি প্রয়োজনীয় অভ্যাস।
বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া—এসবই সেলফ-কেয়ারের অংশ।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্থূলতা ও মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার সংখ্যা বাড়ছে। এসব রোগের বড় একটি অংশ জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত নিজের যত্ন নিলে— রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমে, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি হ্রাস পায়। ঘুমের মান উন্নত হয়, কর্মক্ষমতা ও মনোযোগ বৃদ্ধি পায়, জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়।
প্রতিদিনের জীবনে কীভাবে সেলফ-কেয়ার করবেন?
নিজের যত্ন নেওয়ার জন্য বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই। দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসই পারে বড় পরিবর্তন আনতে। যেমন- প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করুন, পর্যাপ্ত পানি পান করুন। ফল, শাকসবজি ও পুষ্টিকর খাবার বেশি খান। প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন, অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সময় কমান, পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান। ধ্যান, প্রার্থনা বা গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলনের মাধ্যমে মানসিক চাপ কমান। ধূমপান ও অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলুন।অসুস্থ বোধ করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, নিজে নিজে ওষুধ খাবেন না।
বাংলাদেশে কেন এই সচেতনতা জরুরি?
বাংলাদেশেও কর্মব্যস্ততা, যানজট, দীর্ঘ অফিস সময়, অনিয়মিত খাবার ও অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে অনেকেই শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে রাত জাগা, কম ঘুম এবং ডিজিটাল নির্ভরতা বাড়ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন অল্প কিছু সময় নিজের জন্য বরাদ্দ রাখার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে অনেক রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে।
অনেকেই মনে করেন, নিজের জন্য সময় বের করা মানেই স্বার্থপরতা। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি উল্টো। আপনি যদি সুস্থ ও মানসিকভাবে ভালো থাকেন, তবেই পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও সমাজের জন্য আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারবেন।
আন্তর্জাতিক সেলফ-কেয়ার দিবসে প্রতিজ্ঞা হতে পারে—প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় নিজের শরীর ও মনের যত্নে ব্যয় করব। কারণ সুস্থ জীবন শুরু হয় নিজের থেকেই।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা এর সর্বশেষ খবর