একসময় ফুটবল মাঠে ঝাঁকড়া চুল আর বাবরি দোলানো তারকাদের দেখা যেত নিয়মিত। আশির দশক থেকে শুরু করে ২০০০ সালের আগপর্যন্ত এই স্টাইল ছিল বেশ জনপ্রিয়। কার্লোস ভালদেরামো, ডেভিড বেকহ্যাম, গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা ও রোনালদিনহোর মতো তারকারা ছিলেন এই ট্রেন্ডের অন্যতম পরিচিত মুখ।
সময়ের সঙ্গে বদলেছে ফুটবলারদের চুলের স্টাইলও। এখন ফেড কাটসহ আধুনিক নানা স্টাইলেই মাঠে নামতে পছন্দ করেন অধিকাংশ খেলোয়াড়। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে এখনও লম্বা চুল ধরে রেখেছেন মার্ক কুকুরেয়া, মাতেও গুয়েন্ডোজি ও বাংলাদেশের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী।
তবে কুকুরেয়ার লম্বা চুল রাখার গল্পটি অন্যদের চেয়ে একেবারেই আলাদা এবং আবেগঘন। অন্যরা চুল কেটে নতুন স্টাইলে নিজেদের সাজালেও স্পেনের এই ডিফেন্ডারের পক্ষে চুল কাটা সহজ নয়। এর পেছনে রয়েছে তার বড় ছেলে মাতেওকে ঘিরে গভীর ভালোবাসার গল্প।
২৮ বছর বয়সী কুকুরেয়ার তিন সন্তান—মাতেও, রিও ও বেলা। বড় ছেলে মাতেও অটিজমে আক্রান্ত। মাত্র তিন বছর বয়সে তার এই বিশেষ চাহিদার বিষয়টি শনাক্ত হয়।
মাতেও লম্বা চুল পছন্দ করে। আর ছেলের এই পছন্দের কারণেই কুকুরেয়া চুল কাটেন না। তার মনে হয়, কোনো একসময় যদি ছেলে তাকে ভুলে যায়, তাহলে তার লম্বা চুল দেখে যেন তাকে চিনতে পারে। বাবার মতোই মাতেওরও লম্বা চুল।
লম্বা চুল রাখার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিশ্বকাপজয়ী এই ফুটবলার। তিনি বলেন, “আমার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন একটি ছেলে আছে। অর্থ-সম্পদ না থাকার চেয়ে আমার ছেলে সুস্থ থাকলে আমি বেশি খুশি হতাম। আমি চুল বড় করেছি, কারণ আমার ছেলে এটি পছন্দ করে। কোনো এক মুহূর্তে যদি সে আমাকে ভুলেও যায়, অন্তত এই চুল দেখে যেন আমাকে চিনতে পারে।”
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
স্পোর্টস এর সর্বশেষ খবর