বগুড়ার শেরপুরে খাল খনন কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, খালের শতভাগ খনন সম্পন্ন হওয়ার পর সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে ঠিকাদারকে কাজের বিল পরিশোধ করা হবে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৪টায় শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের ঝাঁজর পারভবানীপুর খাল পুনর্খনন কাজ সরেজমিনে পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও স্থানীয় কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে বিএনপি সরকার ঘোষিত দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ প্রকল্পের কাজ চলছে। পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য খালের খনন কাজ, গভীরতা ও পার বাঁধানোর গুণগত মান খতিয়ে দেখেন এবং স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের নানা সমস্যার কথা শুনেন।
জিএম সিরাজ বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমানের দূরদর্শী উদ্যোগে এই খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। কৃষির সামগ্রিক উন্নয়ন এবং বছরের সব ঋতুতে পানিপ্রবাহ বজায় রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য। তাই কাজের গুণগত মানের বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে কাজ শেষ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, খাল খনন শেষ হলে এলাকার শত শত একর অনাবাদী জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে এবং বর্ষা মৌসুমে জলবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ প্রকল্পের কারিগরি দিক ও কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে সংসদ সদস্যকে অবহিত করেন। সিডিউল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শতভাগ কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন শেরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি শহিদুল ইসলাম বাবলু, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মমিন, উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আশরাফুদ্দৌলা মামুন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, খামারকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাইকোবাদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওহাব প্রমুখ।
উল্লেখ্য, শেরপুর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় ও সরেজমিন সূত্রে জানা গেছে, ভদ্রাবতী, চকরামপুর ও একদুলতলা খাল প্রকল্প: মোট ৯.০৩ কিলোমিটার খালের মধ্যে ইতিমধ্যে ৪.৩৩ কিলোমিটার অংশের খনন সম্পন্ন হয়েছে, যা প্রকল্পের প্রায় ৫০% অগ্রগতি। তবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৫০% বিল পরিশোধ করার কথা থাকলেও কাজের মান ও পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারিং অফিস থেকে এখন পর্যন্ত ২৮% বিল প্রদান করা হয়েছে। ঝাঁজর, পারভবানীপুর, মেই খাল, কৈগাড়ী ও দুধকমাড় খাল এই প্রকল্পের আওতায় ৯.০৯ কিলোমিটার খালের মধ্যে প্রায় ৮.৭১৫ কিলোমিটার খনন সম্পন্ন হয়েছে। ঝাঁজর এলাকার খাল খননের কাজ প্রায় ৮০% শেষ। উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার কারণে ঠিকাদারকে এ পর্যন্ত ৫০% বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর