১৬ জুন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঝটিকা পরিদর্শনের পরও নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সেবার মানে কোনো কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি এমন অভিযোগ তুলছেন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। টাকা ছাড়া কোনো সেবা মেলে না। পরিচ্ছন্নকর্মী ও নার্সদের বিরুদ্ধে এমন গুরতর অভিযোগ তুলছেন রোগীরা। তবে হাসপাতালের শয্যার কয়েকগুণ বেশি রোগী, চিকিৎসক ও নার্স সংকট, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় সেবা না পাওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সেবা প্রত্যাশীরা। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, জনবল ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণেই এসব সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে দাবি কর্তৃপক্ষের।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী ও স্বজনদের সাথে কথা বললে এসব অভিযোগ তুলেন তারা।
জানা যায়, নোয়াখালী জেলার প্রায় ৩০ লাখ মানুষের অন্যতম প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র এটি। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও পাশের ফেনী, লক্ষ্মীপুর,কুমিল্লা এমনকি হাতিয়া ও ভাসানচর থেকেও হাজার হাজার রোগীরা আসেন সেবা নিতে। গেল মাসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালটিতে ঝটিকা পরিদর্শন করে বিভিন্ন নির্দেশনা দিলেও বাস্তবে এখনো পরিবর্তনের ছাপ দেখছেন না রোগীরা। বরং প্রতিদিন বাড়ছে রোগীর চাপ, আর সেই সঙ্গে বাড়ছে ভোগান্তিও। ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন প্রায় এক হাজার রোগী। ফলে নির্ধারিত বেডে জায়গা না পেয়ে অনেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন মেঝে, বারান্দা কিংবা করিডোরে। কোথাও একটি বেডে দুইজন, আবার কোথাও শিশু ও বৃদ্ধ একই সংকীর্ণ অপরিচ্ছন্ন জায়গায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
সুবর্ণচর উপজেলা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আমেনা বেগম অভিযোগ করে জানান, চিকিৎসক দেখাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। টাকা ছাড়া সেবা মেলে না। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেও টাকা ওষুধ বাইরে থেকে আনতে গুনতে হয় মোটা অংকের টাকা।সরকারী খাবারেও টাকা ছাড়া মেলে না। মন্ত্রী আসার পরে ভেবেছিলাম কিছু পরিবর্তন হবে। কিন্তু আগের মতোই ভিড়, কষ্ট আর দুর্ভোগ আছে। টাকা থাকলে সরকারী হাসপাতালে সেবা নিতাম না প্রাইভেট হাসপাতালে নিতাম। আমাদেরতো এত টাকা নেই। আমরা গরীর মানুষ। দিন এনে-দিন খাই।
চাটখিল উপজেলা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সোহাগ নামে এক রোগী জানান,হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডের টয়লেট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং রোগীদের বসার পরিবেশ নাজুক অবস্থা। সুস্থ মানুষ আসলে অসুস্থ হয়ে যায়। পরিচ্ছন্নকর্মী ও নার্সরা টাকা চায়। সেবার নাম নেই কথায় কথায় টাকা নেয়। ১০০ টাকা,২০০ টাকা ও ৫০০ টাকা নেয়। বেড দিতে ৩০০ টাকা পরীক্ষা করতে ৫০০ টাকা নিয়েছে। আমরা দিনমজুর এত টাকা কোথায় পায় বলেন।
এ বিষয় নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা: আনোয়ার হোসেন জানান,হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার হলেও বর্তমানে প্রায় এক হাজার রোগী ভর্তি রয়েছে। রোগীর চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। জনবল চরম সংকটও রয়েছে।একটি জেলা হাসপাতাল যখন ধারণক্ষমতার চার গুণ রোগীর চাপ বহন করে, তখন শুধু চিকিৎসক নয় পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপরই বাড়তি চাপ তৈরি হয়। সীমিত জনবল দিয়ে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। বিভিন্ন শূন্য পদ পূরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেবার মান বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর