বাংলাদেশ টেস্ট দলে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর ফিরেছেন সৌম্য সরকার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচের দলে তাঁর প্রত্যাবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। তাঁর মতে, ডারউইনের পেস ও বাউন্স বিবেচনায় সৌম্য সরকারের অভিজ্ঞতাই নির্বাচকদের আস্থা জুগিয়েছে।
হাবিবুল বাশার জানান, দলের টপ অর্ডারে বাঁহাতি ব্যাটারের আধিক্যও এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে ওপেনিংয়ে তানজিদ হাসান তামিম ও শাদমান ইসলাম খেললে পরপর চারজন বাঁহাতি ব্যাটার নামার সম্ভাবনা তৈরি হয়, যা আদর্শ নয় বলে মনে করছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
বাশারের ভাষ্য, মাহমুদুল হাসান জয়কে এই সমীকরণে ভালো বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও ব্যাটিং কৌশল নিয়ে নির্বাচকদের কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। যদিও জয় এখনও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ বলেও জানিয়েছেন তিনি।
প্রধান নির্বাচক বলেন, দলের একজন নির্ভরযোগ্য ডানহাতি ওপেনারের প্রয়োজন রয়েছে। সেই জায়গায় সৌম্য সরকারের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে খেলার সক্ষমতাই তাঁকে এগিয়ে রেখেছে। অন্য ডানহাতি ওপেনারদের নিয়েও ভাবা হলেও তারা এখনও অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠিন সফরের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয় বলে মন্তব্য করেন বাশার। তবে আগামী এক বছরের মধ্যে এই জায়গার জন্য একজন যোগ্য ডানহাতি ওপেনার তৈরি করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে, শ্রীলঙ্কা সিরিজের পর দল থেকে বাদ পড়া উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জাকের আলী অনিকও অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দলে ফিরেছেন। লিটন দাস চোটের কারণে ছিটকে যাওয়ায় সুযোগ পেয়েছেন তিনি। বাশার জানান, জাকেরকে আগেই মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় দেওয়া হয়েছিল। এরপর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ও হাই পারফরম্যান্স দলের হয়ে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স করে তিনি আবারও নির্বাচকদের আস্থা অর্জন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের জন্য বিষয়টি কিছুটা দুর্ভাগ্যজনক হলেও জাকেরকে দীর্ঘমেয়াদে এগিয়ে রাখা হচ্ছে।
লিটন দাসের চোট প্রসঙ্গে হাবিবুল বাশার জানান, প্রাথমিক পরীক্ষায় গুরুতর কিছু ধরা না পড়লেও ব্যথা না কমায় তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে স্ক্যানে তাঁর পেশিতে ফোলা ধরা পড়ে। একই ধরনের চোট বারবার হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, পেসার নাহিদ রানার চোটকে ঘিরে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট নিয়ে ওঠা সমালোচনাও নাকচ করেছেন প্রধান নির্বাচক। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের জিটিএস (GTS) ব্যবস্থার মাধ্যমে সব পেসারের বোলিং ও শারীরিক অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়।
বাশারের দাবি, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সব ম্যাচে নাহিদকে খেলানো হয়নি। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে বিশ্রামও দেওয়া হয়েছিল। তাঁর ভাষায়, একজন পেসারকে যেমন অতিরিক্ত বোলিং করানো ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি প্রয়োজনের তুলনায় কম বোলিং করলেও ইনজুরির আশঙ্কা থাকে। তাই ম্যাচ ফিটনেস ধরে রাখতে নির্দিষ্ট পরিমাণ বোলিং করানো প্রয়োজন হয়। সব ধরনের সতর্কতা নেওয়া হলেও ফাস্ট বোলারদের ক্ষেত্রে শতভাগ চোট এড়িয়ে চলা সবসময় সম্ভব হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর