• ঢাকা
  • ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
মো: সাইফুল আলম সরকার
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশিত : ০৪ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৩৫ বিকাল

পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালিদের আয়কর অব্যাহতি ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিতের দাবি

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

পার্বত্য চট্টগ্রামে সকল জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত, মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা চালু এবং পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাস দমনের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ-এর উদ্যোগে  হাদী চত্বরে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ এর প্রধান সমন্বয়ক মোঃ মোস্তফা আল ইহযায এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ’র প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা কর্নেল অবঃ খন্দকার ফরিদুল আকবর, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ লিগাল এইড’র সভাপতি এডভোকেট পারভেজ তালুকদার, শ্রমিক নেতা বজলুর রহমান বাবলু, ছাত্রনেতা মিজানুর রহমান, স্টুডেন্ট ফর সভারেন্টির আহবায়ক জিয়া উল হক, সাহিদুল ইসলাম, কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম, প্রভাষক নারগিস জুই, যুব নেতা সেলিম রেজা বাচ্চু, শাহপরান সাইম, রোজিনা আক্তার, তারেক রহমান শাওন প্রমুখ।

এসময় পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় স্থায়ীভাবে বসবাসরত বাঙালি জনগোষ্ঠীকে আয়কর অব্যাহতির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ এর প্রধান সমন্বয়ক মোঃ মোস্তফা আল ইহযায বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান আয়কর অব্যাহতি সুবিধা বহাল থাকলেও একই অঞ্চলে বসবাসকারী বাঙ্গালীরা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা বৈষম্য সৃষ্টি করছে। ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে তাদের বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত আয় করমুক্ত রাখার বিধান করা হয়। পরবর্তীতে আয়কর আইন, ২০২৩-এও সেই সুবিধা বহাল রাখা হয়। ২০২৬ সালের ১০ জুন জাতীয় সংসদে উত্থাপিত অর্থবিলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বেতন ও আর্থিক সম্পদ থেকে অর্জিত আয় করযোগ্য করার প্রস্তাব করা হলেও ব্যবসা, কৃষি ও অন্যান্য আয়ের করমুক্ত সুবিধা বহাল রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে পার্বত্য অঞ্চলের সংসদ সদস্যদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ২৯ জুন জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী ক্ষুদ্র নৃ—গোষ্ঠীর বেতন আয়ও করমুক্ত রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একই ভৌগোলিক এলাকায়, একি পরিবেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করেও আমরা আয়কর অব্যাহতির সুযোগ পাচ্ছি না। ফলে অর্থনৈতিক ও প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে পড়ছি।

এসময় তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫০.০৬ শতাংশ স্থানীয় বাঙ্গালি হলেও আমরা চাকরি, উচ্চশিক্ষা, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সুবিধা এবং অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অংশীদারিত্ব থেকে বঞ্চিত। ১৯৯৭ সালের অবৈধভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি নামক কালো চুক্তির পর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষা, চাকরি, উন্নয়ন ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু স্থানীয় বাঙালিদের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, আমাদের কোনো বিষয় রাষ্ট্রের নিকট গুরুত্ব পাচ্ছে না।

মোস্তফা আল ইহযায বলেন, দীর্ঘদিনের আয়কর অব্যাহতির ফলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একটি অংশ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়েছে। পার্বত্য তিন জেলার উপজেলা ভিত্তিক পর্যালোচনা করলে দেখা যায় অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ব্যক্তির বার্ষিক আয় এক কোটি টাকার বেশি, ৩০ থেকে ৪০ জনের আয় ৫০ থেকে ৯৯ লাখ টাকা, ৭০ থেকে ৮০ জনের আয় ২০ থেকে ৪৯ লাখ টাকা, প্রায় ১২০ থেকে ১৫০ জনের আয় ১১ থেকে ২০ লাখ টাকা, প্রায় ১৫০ থেকে ১৬০ জনের আয় ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং ২০০ জনের অধিক লোকের আয় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার মধ্যে রয়েছে। এই সংখ্যা সময়ের সঙ্গে বাড়ছে, এরাই পাচ্ছে আয়কর মওকুফের সুবিধা। পক্ষান্তরে বাঙ্গালীদের ক্ষেত্রে চিত্রটা ভিন্ন, একজন বাঙ্গালীনঠিকাদার কে তাদের কাজের ধরন অনুযায়ী ৩.৫ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত আয়কর দিতে হয়। ফলে দরপত্রে সেই ব্যয় যুক্ত করতে হয়। অন্যদিকে, আয়কর অব্যাহতির সুবিধাপ্রাপ্ত ঠিকাদারেরা তুলনামূলক কম দর দিতে পারেন, যা প্রতিযোগিতায় অসম অবস্থার সৃষ্টি করে বলে আমি মনে করছি।

এডভোকেট পারভেজ তালুকদার বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা পরিষদে হস্তান্তরিত বিভাগসমূহের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির (১১-২০তম গ্রেড) চাকরিতে শতভাগ স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় পার্বত্য বাঙালি শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক কোটা চালুর দাবি জানাই।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের কতিপয় উপজাতির ‘আদিবাসী’ দাবি করার পেছনে গভীর ভূ-রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। ১৯৭২ সালে মিস্টার লারমা যে বিতর্ক তুলে সশস্ত্র গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে বিদ্রোহ করেছিল তা দীর্ঘ আলোচনা প্রক্রিয়ার পর ১৯৯৭ সালে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’ স্বাক্ষরের মাধ্যমে অবসান হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে নিজেদের পরিচয় হিসেবে অন্তত ৫০ বার অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ‘উপজাতি’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। এখন ‘আদিবাসী’ দাবি করা চরম স্ববিরোধিতা। ২০০৭ সালে জাতিসংঘ সনদ (UNDRIP) ঘোষণার পর থেকে মূলত ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় এই নতুন বিতর্ক চাঙ্গা করেন। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতি পেলে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আইনি ভিত্তি তৈরির সুযোগ থাকে। তাই ‘আদিবাসী’ শব্দের আড়ালে সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা বিনষ্টের অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না। দেশের অখণ্ডতা সুরক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশ শেষে শাহবাগের শহীদ হাদী চত্বর থেকে রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

বাপ্পি/সা.এ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:


BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]