কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে নাস্তা ও খাসি না দেওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে বাবা বাদশা মিয়া (৫০)-কে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়ের স্বামী মহিউদ্দিন, শ্বশুর মতিন মিয়া, শাশুড়ি রোজিনা বেগম ও ননদের স্বামী হৃদয়ের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের নাল্লা গ্রামের কাইল্লা মিস্ত্রির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার রাত ২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন।
নিহতের স্ত্রী ঝর্ণা বেগম ও স্বজনদের অভিযোগ, এক বছর আগে সামাজিক ও ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক তাদের মেয়ে ময়না আক্তারের সঙ্গে দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামের মতিনের ছেলে মহিউদ্দিনের বিয়ে হয়।
বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ময়নাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন এবং তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে আসছিলেন। তাদের দাবি, মঙ্গলবার দুপুরে ময়নাকে শ্বশুরবাড়িতে রেখে শ্বশুর মতিন মিয়া, শাশুড়ি রোজিনা বেগম ও ননদের স্বামী হৃদয় নাল্লা গ্রামে বাদশা মিয়ার বাড়িতে আসেন।
আগামী শুক্রবারে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের বাড়ি থেকে নাস্তা ও খাসি, অতিরিক্ত লোকজন যাওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মতিন মিয়া বাদশা মিয়াকে মারধর করেন এবং তলপেটে লাথি মারেন। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তদের আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে আটক করে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের মেয়ে ময়নার বান্ধবী ও প্রতিবেশী তাসমিম জাহান নির্জনা বলেন, "এই ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও ন্যক্কারজনক। আমার বান্ধবী দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল।
তার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় আজ তার বাবাকে হত্যার খবর পেয়েছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। একই সঙ্গে ময়নার জীবনের নিরাপত্তা এবং তার গর্ভে থাকা শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো পরিবার এ ধরনের যৌতুকজনিত নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার না হয়, সে ব্যবস্থাও নিতে হবে।"
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন বলেন, "খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে শ্বশুরবাড়ির তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর