গত দুই দিনের একটানা বৃষ্টি এবং উজানে ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
বুধবার সকাল থেকে শেরপুরের পাহাড়ি সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল শুরু হয়। মঙ্গলবার রাতের শেষ ভাগ থেকে বৃষ্টিপাত আরও বেড়ে যাওয়ায় নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে।
শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ভারতের মেঘালয় রাজ্যে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে উজানের পানি নেমে আসায় জেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে একটি নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে এবং অন্যান্য নদীর পানিও ক্রমাগত বাড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বুধবার বিকেল ৩টার সময় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদীর পানি বিপদসীমার ১০৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া জেলার অন্যান্য নদীর পানিও বাড়তে দেখা গেছে।
অপরদিকে, একই উপজেলার ভোগাই নদীর পানি নাকুগাঁও স্থলবন্দর পয়েন্টে সকালে বিপদসীমার নিচে থাকলেও বিকেলে তা বেড়ে বিপদসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একইভাবে ওই নদীর নালিতাবাড়ী পয়েন্টে পানি সকালে বিপদসীমার ২৮৮ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও সন্ধ্যার দিকে তা বেড়ে বিপদসীমার ৫৩ সেন্টিমিটার নিচে পৌঁছেছে। এছাড়া চেল্লাখালী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে তীর ভাঙন এবং বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শেরপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, "উজানে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে শেরপুরে নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বৃষ্টিপাত ইতোমধ্যে কিছুটা কমেছে। ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে বৃষ্টি কমে গেলে এখানকার পানিও দ্রুত নেমে যাবে।" তিনি আরও বলেন, "আমাদের ৭২ ঘণ্টার একটি সতর্কতা ছিল, যা আজ শেষ হতে যাচ্ছে। নতুন করে বন্যার কোনো সতর্কতা নেই। শেরপুরে পানি দ্রুত নামার প্রবণতা রয়েছে। সাধারণত ১-২ ঘণ্টার মধ্যেই পানি কমতে শুরু করে।"
এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় শেরপুর পয়েন্টে ৮.৫০ মিলিমিটার, নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ৪২ মিলিমিটার এবং নাকুগাঁও পয়েন্টে ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শেরপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ীর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ফসলের ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে। তিনি আরও বলেন, আজ বুধবার ছুটির দিন হওয়ায় বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়া সম্ভব হবে। বর্তমানে জেলায় প্রায় ১৮০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক হয়েছে, বন্যার কোনো সম্ভাবনা নেই।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর