নোয়াখালী বেগমগঞ্জ উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শনে গিয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগের পরিচয় দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে তিনি শুধু অবকাঠামো ও শিক্ষার পরিবেশ পর্যবেক্ষণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি বরং শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি পাঠদান করেন। ইউএনওর এমন উদ্যোগে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার( ৭ আগস্ট) দুপুরে বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নে শামসুন্নাহার উচ্চ বিদ্যালয় ও বসন্তবাগ ফাজিল মাদরাসায় পরিদর্শনে গিয়ে ইউএনও প্রথমে বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ, শ্রেণিকক্ষের পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ঘুরে দেখেন। পরে তিনি কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচিত হন এবং তাদের লেখাপড়া, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন।এক পর্যায়ে ইংরেজি বিষয়ে গ্রামার ও রসায়ন বিষয়ের বেসিক ধারণা,বিভিন্ন বিক্রিয়া তিনি নিজেই পাঠদান শুরু করেন। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের আলোকে সহজ ভাষায় বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করেন এবং প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করলেই হবে না, একজন সৎ, দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবেও নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকা, সময়মতো পড়াশোনা করা এবং প্রযুক্তিকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করার পরামর্শ দেন তিনি। ক্লাসে ইউএনও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তোমরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ।তোমাদের জ্ঞান, সততা ও শৃঙ্খলার ওপরই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। তাই প্রতিদিন মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করবে, শিক্ষকদের সম্মান করবে এবং বাবা-মায়ের কথা শুনবে।
তিনি আরও বলেন,শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নৈতিকতা, দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিজেদের দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এখন থেকেই সৎ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
পরিদর্শনকালে ইউএনও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরে পড়া রোধ এবং পাঠদানকে আরও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ও অভিভাবকদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেন। সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানো এবং তাদের পড়াশোনার প্রতি নজর রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একটি শিশুর শিক্ষাজীবনে পরিবার ও বিদ্যালয়ের সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন জানান,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও স্যারের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করেছে। একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা শ্রেণিকক্ষে এসে পাঠদান করবেন, এমন অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
স্কুলের ৯ম শ্রেণীর আনিকা তাবাসসুম এবং মাদরাসার শিক্ষার্থী ইমরুল কায়েস জানান, ইউএনও স্যারের কাছ থেকে ক্লাস করতে পেরে তারা খুব আনন্দিত। তিনি সহজ ভাষায় পড়িয়েছেন এবং ভবিষ্যতে ভালো মানুষ হওয়ার জন্য নানা পরামর্শ দিয়েছেন।এ অভিজ্ঞতা তাদের দীর্ঘদিন মনে থাকবে। স্যারের ক্লাসের বিশ্লেষণ নিখুঁত। ইংরেজি গ্রামার অনেক সহজভাবে বুঝিয়েছেন।আর রসায়ন ক্লাস সত্যিই অসাধারণ নিয়েছেন স্যার।এত সুন্দরভাবে বিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা সহজে আমরা আয়ত্ত্বে করতে পারছি সত্যিই অতুলনীয় ক্লাস।
শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।অভিভাবকরা জানান, মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের এমন সরাসরি সম্পৃক্ততা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও অনুপ্রেরণা বৃদ্ধি করবে।
প্রশাসনের এমন অংশগ্রহণ শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝেও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়। নিয়মিত এ ধরনের পরিদর্শন ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধান করা সম্ভব হবে। ইউএনও স্যারের সরাসরি পাঠদান প্রশাসনের জনবান্ধব ও শিক্ষাবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে এবং শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় নতুন করে উৎসাহ পাবে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর