শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, শ্রমিকদের পূর্ণ আইনানুগ পাওনা নির্ধারণ এবং স্থগিত সভা দ্রুত পুনরায় আহ্বানের দাবিতে গাজীপুর সদর উপজেলার নতুনবাজার এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন লিথী গ্রুপের পাঁচটি কারখানার অধিকারবঞ্চিত শ্রমিকরা।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে তারা এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় বিভিন্ন দাবিদাওয়া তুলে ধরে দ্রুত সমস্যার সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন শ্রমিকরা।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, লিথী গ্রুপের পাঁচটি কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে হাজারো শ্রমিক দীর্ঘদিন ধরে তাদের আইনানুগ পাওনা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এতে শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা চরম মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
তাদের দাবি, গত ৬ জুলাই শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় শ্রমিকদের চূড়ান্ত পাওনা নির্ধারণের লক্ষ্যে ২৩ জুলাই পুনরায় সভা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত তারিখে সেই সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। দীর্ঘ সময় পার হলেও আজ পর্যন্ত সভাটি পুনরায় আহ্বান না করায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
বক্তারা প্রশ্ন তুলে বলেন, শ্রম মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পর্যায়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণ কী? কার স্বার্থে শ্রমিকদের পাওনা নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে? এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী কারখানা বন্ধ বা শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের নির্ধারিত আইনানুগ সুবিধা নিশ্চিত করার বিধান থাকলেও একটি কথিত সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে সেই সুবিধা কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই চুক্তিতে নোটিশ পে ১৫ দিন এবং প্রতি বছরের জন্য ১০ দিনের মূল মজুরির সমপরিমাণ সার্ভিস বেনিফিট নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা শ্রমিকরা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, শ্রম আইন অনুযায়ী নোটিশ পে ৩০ দিন এবং প্রতি বছরের জন্য ৩০ দিনের মূল মজুরির সমপরিমাণ সার্ভিস বেনিফিট প্রদান করতে হবে।
এ ছাড়া শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের কার্যালয়ে শ্রমিকদের চূড়ান্ত পাওনা নির্ধারণের কোনো আইনগত এখতিয়ার না থাকলেও সেখানে চাপ সৃষ্টি করে একটি সমঝোতা কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান তারা।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে শ্রমিকরা ২৩ জুলাইয়ের স্থগিত সভা দ্রুত পুনরায় আহ্বান, ৬ জুলাইয়ের সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণ প্রকাশ, বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী পূর্ণ আইনানুগ পাওনা নির্ধারণ ও পরিশোধ, শ্রমিকদের প্রত্যাখ্যাত কোনো সমঝোতা চাপিয়ে না দেওয়া, কথিত সমঝোতা প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে শ্রমিকরা বলেন, লিথী গ্রুপের হাজারো শ্রমিক ও তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ এই পাওনা নিষ্পত্তির সঙ্গে জড়িত। তাই তারা সরকার, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত, স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর