উগান্ডার জনপ্রিয় ফুটবলার ডেভিড ওয়েরি ডাকাতের হামলায় নিহত হয়েছেন। রাজধানী কাম্পালায় নিজ বাড়ির কাছে হামলার শিকার হয়ে ২৭ বছর বয়সী এই ফুটবলারের মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য জিনিস ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার প্রতিবাদ করায় ওয়েরির ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের পাশাপাশি উগান্ডায় বেড়ে চলা সহিংস অপরাধ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
ওয়েরি ছিলেন উগান্ডা প্রিমিয়ার লিগের ১৭ বারের চ্যাম্পিয়ন স্পোর্টস ক্লাব ভিলার অধিনায়ক। ক্লাবটির হয়ে তিনি রাইটব্যাক ও মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেছেন। পাশাপাশি উগান্ডা জাতীয় দলেও প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি।
স্পোর্টস ক্লাব ভিলা এক শোকবার্তায় জানায়, “আমরা শুধু একজন খেলোয়াড়কে হারাইনি; হারিয়েছি একজন নেতা, ভাই ও বন্ধুকে।”
উগান্ডার সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অবজারভার’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে কাম্পালার উপকণ্ঠ মাকিন্ডিয়েতে বাড়ি ফেরার পথে অজ্ঞাত হামলাকারীদের কবলে পড়েন ওয়েরি। ক্লাব সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, রাত প্রায় ৮টার দিকে বাড়ির কাছেই তার ওপর হামলা হয়। দুর্বৃত্তরা ইট দিয়ে তার মাথা ও শরীরে আঘাত করে এবং তার কাছে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কাছের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে কেস ক্লিনিকে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (৫ আগস্ট) তার মৃত্যু হয়।
কাম্পালা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপমুখপাত্র লুক ওয়োইয়েসিগিরে জানান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, হামলাকারীদের শনাক্ত করতে অভিযান শুরু হয়েছে। তবে হামলার সঠিক কারণ এবং কী কী জিনিস ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
স্থানীয় পুলিশ মুখপাত্র র্যাচেল কাওয়ালাও জানান, জড়িতদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তদন্ত চলছে।
ভক্তদের কাছে ‘কোলগেট’ নামে পরিচিত ওয়েরির মৃত্যুতে উগান্ডার ফুটবল অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উগান্ডা ফুটবল ফেডারেশন তাকে মাঠ ও মাঠের বাইরের একজন প্রকৃত নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ফেডারেশনের বিবৃতিতে বলা হয়, “ডেভিড শুধু একজন ফুটবলার ছিলেন না; তিনি ছিলেন একটি প্রজন্মের অনুপ্রেরণা।” উগান্ডা জাতীয় ফুটবল দল ‘দ্য ক্রেনস’ও শোক প্রকাশ করে বলেছে, দেশ এমন একজন তারকাকে হারিয়েছে, যিনি উগান্ডার আশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতীক ছিলেন।
ওয়েরির স্মরণে উগান্ডার সংসদে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়েছে এবং দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই কাম্পালায় বেড়ে চলা সহিংস অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর