ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, ইউক্রেনে হামলার সক্ষমতা আরও বাড়াতে পশ্চিম রাশিয়ায় উত্তর কোরিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে মস্কো। ওই ইউনিটে ১২০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ছয়টি মোবাইল লঞ্চার থাকতে পারে বলে জানিয়েছে কিয়েভ। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ইউক্রেনের গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (জিইউআর) মুখপাত্র আন্দ্রি চেরনিয়াক জানান, প্রায় ৯০ জন উত্তর কোরীয় সেনা নিয়ে গঠিত একটি মিসাইল ইউনিটকে রাশিয়ার ভোরোনেজ অঞ্চলে অবস্থানরত ১১২তম মিসাইল ব্রিগেডের অধীনে মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তার দাবি, উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে ৪০টি কেএন-২৩ ও কেএন-২৪ ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং সংশ্লিষ্ট সেনা সদস্যদের রাশিয়ায় পাঠিয়েছে। আগামী মাসে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে মোট ১২০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ছয়টি লঞ্চার এই মোতায়েনের অংশ হতে পারে। তবে উত্তর কোরিয়ার সেনারা সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনায় অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাশিয়া সাম্প্রতিক সময়ে ব্যালিস্টিক মিসাইলের ব্যবহার বাড়িয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা তুলনামূলকভাবে কঠিন হওয়ায় ইউক্রেনের জন্য নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
চেরনিয়াকের ভাষ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে রাশিয়া ইউক্রেনে দুটি উত্তর কোরীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করেছে, যা গত আগস্টের পর এ ধরনের প্রথম হামলা। তার দাবি, এই দুটি মিসাইল সম্প্রতি পাঠানো ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্রের চালানের অংশ।
ফিলাডেলফিয়াভিত্তিক থিংক ট্যাংক ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো রব লি বলেন, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র সহায়তা ইউক্রেনের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তার মতে, ইউক্রেনের অন্যতম দুর্বল দিকই হলো ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ফলে এ ধরনের অস্ত্রের সংখ্যা বাড়লে কিয়েভের নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়বে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, আগামী শীতে রাশিয়া যদি আগের মতো ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালায়, তাহলে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর আরও বড় চাপ সৃষ্টি হবে।
রয়টার্স জানিয়েছে, চেরনিয়াকের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তিনি নিরাপত্তাজনিত কারণে এ-সংক্রান্ত নথি প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান। এ বিষয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘে উত্তর কোরিয়ার স্থায়ী মিশন তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার হয়েছে। ২০২৪ সালে দুই দেশ পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। ইউক্রেনের দাবি, উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে রাশিয়াকে লাখ লাখ আর্টিলারি শেল সরবরাহ করেছে এবং কুরস্ক অঞ্চলে প্রায় ১৪ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে।
গত সপ্তাহে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, উত্তর কোরিয়ার একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল মধ্য ইউক্রেনের রাদুশ্নে গ্রামের একটি বাড়িতে আঘাত হানে। এতে একই পরিবারের অন্তত পাঁচজন নিহত হন।
ইউক্রেনের সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার কেএন-২৩ ও কেএন-২৪ ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় বেশি পাল্লা ও ভারী ওয়ারহেড বহনে সক্ষম হলেও এগুলোর নির্ভুলতা তুলনামূলক কম। এ কারণে এসব হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকি বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে।
চেরনিয়াকের দাবি, ২০২৩ সালের শেষ থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে অন্তত ১৫০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল সরবরাহ করেছে। এছাড়া বর্তমানে কুরস্ক অঞ্চলে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ উত্তর কোরীয় সেনা অবস্থান করছে, যদিও তারা এখনো সরাসরি ইউক্রেনের অভ্যন্তরে যুদ্ধ পরিচালনায় অংশ নিচ্ছে না।
অন্যদিকে, গত মাসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেন, রাশিয়া আরও ৩০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা পাঠানোর জন্য পিয়ংইয়ংয়ের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে এবং তাদের গ্রহণের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর