নোয়াখালী বেগমগঞ্জ উপজেলায় প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগীতার খেলাকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীনারায়ণ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বারা লাঠিসোটা নিয়ে চৌমুহনী মদন মোহন স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলার গুরুতর আহত হয়েছে ৪ শিক্ষকসহ ১০ শিক্ষার্থী। আহত অনেকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।
বৃহস্পতিবার ( ৬ আগস্ট) বিকালে বেগমগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীনারায়পুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় গুরুতর আহত শিক্ষক মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগীতার একটি ম্যাচ আমাদের চৌমুহনী মোদন মোহন স্কুল বনাম এম.এ মতিন দাখিল মাদরাসার খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ভেন্যু লক্ষ্মীনারায়ণ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে।স্কুলের ক্রীড়া শিক্ষক দ্বারা খেলা পরিচালনা করার নিয়ম থাকলেও লক্ষ্মীনারায়ণপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক শফি উদ্দিন সহকারী এক শিক্ষক দিয়ে রেফারী দায়িত্ব পালন করায় রেফারি পক্ষপাতিত্ব করে। রেফারি বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বলতে গেলে কথা বলার এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতিতে লক্ষ্মীনারায়নপুর স্কুলের শত শত শিক্ষার্থীরা লাঠিসোটা নিয়ে আমাদের ৪ শিক্ষক, ১৫ জন ছাত্র একজন স্কুল স্টাফ উপর উপর্যুপরি হামলা করে গুরুতর আহত করে।তিনি আরোও অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিক্ষক শফিউদ্দিনের সামনে তার স্কুলের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের উপর হামলা করলো তিনি বাঁধাটুকু দেন নি। থানায় ফোন দিলে পুলিশ আমাদের উদ্ধার করে। একজন প্রধান শিক্ষক তিনি উনার স্কুল ভেন্যু কিভাবে ছাত্রদের লেলিয়ে দিয়ে আমাদের শিক্ষকদের উপর দেশীয় লাঠিসোটা নিয়ে হামলা। স্কুলের সিসিটিভিতে সব ভিডিও আছে। প্রধান শিক্ষকসহ হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
স্থানীয়রা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, শৃঙ্খলা ও খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব গড়ে তোলার কথা। সেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জড়িয়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে ভেন্যু ও আয়োজক কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। যেখানে খেলা হয় সে ভেন্যু পরিচালনাকারীর ব্যর্থতা কারণে এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।এসব ঘটনা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীনারায়ণপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক শফিউদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, একটি ঘটনা ঘটেছে।আপনাকে পরে ফোন দিচ্ছি। অপর প্রশ্নে আপনার সামনে আপনার স্কুলের শিক্ষার্থীরা অপর স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্রদের কিভাবে হামলা করে,প্রশ্ন করা তিনি এড়িয়ে যান।ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কায়েসুর রহমান (ইউএনও) সাথে কথা হলে তিনি জানান, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গ, আহত শিক্ষক ও ছাত্রদের পরিবার ও সহকর্মীরা দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। তারা জানান, শিক্ষকদের উপর হামলার মতো ঘটনা শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে নেতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়। তারা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আয়োজিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তবে ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর