নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হলে বাংলাদেশে ফিরে এসে নিজের বিরুদ্ধে থাকা মামলার বিচার মোকাবিলা করতে প্রস্তুত ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। একই সঙ্গে দেশে ফিরে বিদায়ী সিরিজ খেলা এবং ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে খেলার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন সাকিব আল হাসান।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সাকিব ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে দেশে ফেরেননি। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং শ্রীলঙ্কায় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলছেন।
দেশে ফেরার বিষয়ে সাকিব বলেন, সরকার যদি তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ছাড়পত্র দেয়, তাহলে তিনি দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি জানেন যে তিনি কোনো অপরাধ করেননি।
সাকিব আরও জানান, দেশে ফিরলে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলতে চান। তার মতে, সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে দেশে ফেরার পথ তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।
শেখ হাসিনার সঙ্গে তার রাজনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে সাকিব বলেন, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। এর আগে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, সেটিও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
রয়টার্স জানায়, ২০২৪ সালের শেষ দিকে একবার অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়ে বাংলাদেশে ফেরার জন্য বিমানে উঠেছিলেন সাকিব। বিমানবন্দর থেকে কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাত্রার বিষয়টি নিশ্চিতও করেছিলেন তিনি। কিন্তু মাঝপথে তাকে ফিরে যেতে বলা হয়। পরে তিনি দুবাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান।
সাকিবের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দেশে ফেরার পরিকল্পনাটি আগের পাঁচ থেকে সাত দিন ধরে প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু যাত্রাপথে পরিস্থিতি পরিবর্তন হওয়ায় তাকে ফিরে যেতে হয়।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোকে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছিল বলেও জানান সাকিব। তবে বিষয়টি নিয়ে নিজের বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, একটি জন্মদিনের শুভেচ্ছা কীভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার মানদণ্ড হতে পারে, তা তিনি বুঝতে পারেন না।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাকিবের বিরুদ্ধে বর্তমানে দুটি মামলা সক্রিয় রয়েছে। এর একটি ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় এক বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার ঘটনায় করা হত্যা মামলা এবং অন্যটি দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষের করা দুর্নীতির অভিযোগসংক্রান্ত মামলা।
হত্যা মামলাটি নিয়ে সাকিব দাবি করেন, যে দিন মামলাটি করা হয়েছিল, সেদিন তিনি কানাডার টরন্টোতে একটি ম্যাচ খেলছিলেন। মামলাটিকে তিনি ‘হাস্যকর’ বলেও মন্তব্য করেন। এখনো তিনি ওই মামলায় কোনো আইনজীবী নিয়োগ করেননি বলে জানান।
এ ছাড়া তদন্তের কারণে তার ব্যাংক হিসাব প্রায় দেড় বছর ধরে জব্দ রয়েছে বলেও জানান সাকিব। তবে কোন ব্যাংকে কত অর্থ আটকে আছে, তা প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি। একই সঙ্গে গত ১০ বছর ধরে তিনি সবচেয়ে বেশি কর দেওয়া ক্রিকেটারদের একজন বলে দাবি করে তদন্ত শেষে কোনো অনিয়ম না পেলে তার অর্থ ছাড় করে দেওয়ার আহ্বান জানান।
সাকিব আরও বলেন, গত দুই বছরে তিনি বাংলাদেশে থাকা বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। তার বাবা-মাও বাংলাদেশ ছাড়তে পারেননি বলে জানান তিনি। পরিস্থিতিটি পুরো পরিবারের জন্য কঠিন হলেও তারা তা সামলে নিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন সাকিব।
এদিকে, বুধবার দিল্লিতে শেখ হাসিনার একটি সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হওয়ার বিষয়েও কথা বলেন সাকিব। তিনি বলেন, ওই অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল শান্তি ও বাংলাদেশের অগ্রগতির আহ্বান জানানো। এ কারণে নিজের অংশগ্রহণ নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই।
রয়টার্স জানায়, ওই ঘটনার পর বাংলাদেশে সাকিবের খালি বাড়িতে হামলা চালানো হয়।
ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেছেন সাকিব। ৩৯ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার জানান, এখনো তিনি বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলছেন এবং নিজের পারফরম্যান্স উপভোগ করছেন। তবে বয়স তার পক্ষে নেই উল্লেখ করে খুব বেশি সময় অপেক্ষা না করে অবসর নেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।
সাকিবের আশা, দেশে ফিরে একটি বিদায়ী সিরিজ খেলবেন এবং সম্ভব হলে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর