আসিয়ান কাপে অন্তত ৩-৪ পয়েন্ট অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যায়নি। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই পরাজিত হয়ে হতাশাজনকভাবে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে হামজা চৌধুরী, জামাল ভূঁইয়া ও শেখ মোরসালিনদের বাংলাদেশ।
প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ এবং দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হারের পর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বড় ব্যবধানের পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশকে ৯-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া।
ম্যাচের শুরুতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও ১১ মিনিটে প্রথম গোল হজম করে বাংলাদেশ। রোমিনির কাটব্যাক থেকে মিসেল বেকারের প্লেসিং শটে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ১৯ মিনিটের মধ্যে বাংলাদেশের একটি আক্রমণ ভেস্তে যাওয়ার পর পাল্টা আক্রমণে আবারও গোল করেন বেকার।
৩২ মিনিটে রিদো রিজকির জোরালো শটে ব্যবধান ৩-০ হয়। তবে ৩৬ মিনিটে শুকির নিখুঁত ক্রস থেকে শাহরিয়ার ইমনের দারুণ হেডে একটি গোল শোধ দেয় বাংলাদেশ।
কিন্তু সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি। পরের মিনিটেই আবার গোল করে ইন্দোনেশিয়া। ৪২ মিনিটে নিজের চতুর্থ গোল করেন মিসেল বেকার। যোগ করা সময়ে হাবনার জাস্টিনের গোলে প্রথমার্ধ শেষ হয় ৬-১ ব্যবধানে।
বিরতির পর কয়েকটি পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে গোলরক্ষক শ্রাবণ কয়েকটি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে ব্যবধান আরও বড় হওয়া থেকে দলকে রক্ষা করেন। তবে শেষ ১০ মিনিটে আবারও আক্রমণের ঝড় তোলে স্বাগতিকরা।
৯০ মিনিটে লিউকের গোলে ইন্দোনেশিয়া সপ্তম গোল পায়। তবে এর এক মিনিট পর রাকিবের ক্রস থেকে ফারহান আলী ওয়াহিদের দুর্দান্ত শটে ব্যবধান কমিয়ে ৭-২ করে বাংলাদেশ।
ম্যাচের শেষ দিকে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। যোগ করা সময়ে আরও দুটি গোল করে ইন্দোনেশিয়া। মিসেল বেকার নিজের পঞ্চম গোল পূর্ণ করে দলের বড় জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
শেষ পর্যন্ত ৯-২ গোলের বড় ব্যবধানের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। এই জয়ে ইন্দোনেশিয়া ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে, আর টানা তিন হারে আসিয়ান কাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর