অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, ফরজ গোসলের কথা মনে না রেখেই যদি স্বাভাবিকভাবে গোসল করা হয়—কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া এবং পুরো শরীর ভালোভাবে ধোয়া হয়—তাহলে কি সেই গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জিত হবে? নাকি পরে আবার ফরজ গোসল করতে হবে?
ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, ফরজ গোসলের ক্ষেত্রে কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া এবং শরীরের সর্বত্র পানি পৌঁছানো অপরিহার্য। অন্যদিকে, গোসলের শুরুতে ফরজ গোসলের নিয়ত করা সুন্নত; এটি ফরজের অন্তর্ভুক্ত নয়।
সুতরাং কেউ যদি গোসলের সময় যথাযথভাবে কুলি করেন, নাকে পানি পৌঁছান এবং শরীরের প্রতিটি অংশে পানি পৌঁছে দেন, তাহলে ফরজ গোসলের নিয়ত মনে না থাকলেও তার গোসল সহিহ হবে। এ অবস্থায় পুনরায় ফরজ গোসল করার প্রয়োজন নেই।
অর্থাৎ, শুধু নিয়ত মনে না থাকার কারণে গোসল বাতিল হয়ে যায় না—যদি গোসলের ফরজ বিষয়গুলো যথাযথভাবে আদায় হয়ে থাকে।
গোসলের কোনো ফরজ বাদ পড়লে কী করবেন?
যদি গোসলের সময় অসাবধানতাবশত কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া বা শরীরের কোনো অংশে পানি পৌঁছানো বাদ পড়ে যায়, তাহলে পরে বিষয়টি মনে পড়লে শুধু যে অংশটি বাদ গেছে সেটি সম্পন্ন করলেই গোসল পূর্ণ হয়ে যাবে।
অর্থাৎ কুলি বাদ গেলে কুলি করা, নাকে পানি না গেলে নাকে পানি দেওয়া কিংবা শরীরের কোনো অংশ শুকনো থাকলে সেই অংশ ধুয়ে নিলেই গোসল সম্পূর্ণ হবে। এ ধরনের ভুলের কারণে শুরু থেকে আবার গোসল করার প্রয়োজন নেই।
অসম্পূর্ণ গোসলের পর নামাজ আদায় করলে
গোসলের ফরজ কোনো অংশ বাকি থাকা অবস্থায় যদি কেউ নামাজ পড়ে ফেলেন, তাহলে পরে গোসলের অপূর্ণ অংশ পূরণ করার পর সেই নামাজ পুনরায় আদায় করতে হবে। কারণ, পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের আগেই নামাজ আদায় করা সহিহ হবে না।
সুন্নত অনুযায়ী ফরজ গোসলের নিয়ম
সুন্নত অনুসারে ফরজ গোসল করার ধাপগুলো হলো—
• প্রথমে মনে মনে অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার নিয়ত করা।
• ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পড়ে গোসল শুরু করা।
• দুই হাত কবজি পর্যন্ত ধুয়ে নেওয়া।
• শরীর বা পোশাকে কোনো অপবিত্রতা থাকলে তা পরিষ্কার করা।
• ভালোভাবে কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া এবং অজু সম্পন্ন করা।
• এরপর মাথায় এমনভাবে পানি ঢালা, যাতে চুল ও দাড়ির গোড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছে যায়।
• প্রথমে ডান কাঁধ, পরে বাম কাঁধে পানি ঢেলে পুরো শরীর ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া। শরীরের প্রতিটি বাহ্যিক স্থানে অন্তত তিনবার পানি পৌঁছানোর চেষ্টা করা।
• সবশেষে পায়ের আঙুল খিলাল করে পা ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া।
যেসব কারণে গোসল ফরজ হয়
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী নিচের চারটি কারণে গোসল ফরজ হয়ে যায়—
১. ঘুমন্ত বা জাগ্রত অবস্থায় উত্তেজনার সঙ্গে পুরুষ বা নারীর বীর্যপাত হলে।
২. স্বামী-স্ত্রীর সহবাস হলে। এ ক্ষেত্রে বীর্যপাত না হলেও গোসল ফরজ হবে।
৩. নারীর মাসিক (হায়েজ) শেষ হলে।
৪. সন্তান জন্মের পর নেফাসের রক্তপাত বন্ধ হলে।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী, ফরজ গোসলের মূল উদ্দেশ্য হলো পূর্ণ পবিত্রতা অর্জন। তাই গোসলের ফরজগুলো যথাযথভাবে আদায় করা জরুরি। তবে নিয়ত ভুলে গেলেও যদি ফরজ কাজগুলো সম্পন্ন হয়ে যায়, তাহলে সেই গোসলই যথেষ্ট এবং পুনরায় গোসল করার প্রয়োজন হয় না।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর