রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুযোগ রেখে একটি নিষেধাজ্ঞা বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। নতুন এই আইনের আওতায় ভারত ও চীনের ওপরও অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (৭ আগস্ট) মার্কিন সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি পাস হয়। বিলটি এখন প্রতিনিধি পরিষদে যাবে। আগামী ৩১ আগস্ট প্রতিনিধি পরিষদ অধিবেশনে ফিরলে সেখানে বিলটি নিয়ে পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে।
ইউক্রেনের কট্টর সমর্থক রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের সম্মানে বিলটির নামকরণ করা হয়েছে। গত ১১ জুলাই গ্রাহাম মারা যাওয়ার পর তার বোন ডার্লিন গ্রাহাম সিনেটে তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
বিলটি পাসের পর ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল বলেন, এর মাধ্যমে ইউক্রেনের জনগণকে জানানো হয়েছে যে তারা একা নয় এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে জানানো হয়েছে যে তিনি ইউক্রেন দখল করতে পারবেন না।
ভারত-চীনসহ পাঁচ দেশের ওপর শুল্কের সুযোগ
বিলটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিকারক বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ দেশের ওপর শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ওই তালিকায় ভারত ও চীনের পাশাপাশি আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ার নাম রয়েছে।
অর্থাৎ, বিলটি কার্যকর হলে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল বা গ্যাস আমদানি অব্যাহত রাখা দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবে। সর্বোচ্চ শুল্কের হার ১০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
তবে যেসব দেশ রাশিয়া থেকে মোট প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ১৫ শতাংশের কম নেয় এবং রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাদের জন্য কিছু ছাড়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।
পুতিন ও রুশ জ্বালানি খাতও নিষেধাজ্ঞার আওতায়
নতুন আইনে শুধু রাশিয়ার তেল-গ্যাস ক্রেতাদের লক্ষ্য করা হয়নি। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং জ্বালানি প্রকল্পগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া বিদ্যমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রুশ তেল ও জ্বালানি আয়ের প্রবাহ সচল রাখতে ব্যবহৃত পুরোনো ও নতুন নামে নিবন্ধিত তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার বিধান রয়েছে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট চাইলে কিছু নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ থেকে ছাড় দিতে পারবেন। এজন্য তাকে কংগ্রেসকে জানাতে হবে যে ওই ছাড় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন।
ইরানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা
রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি বিলটিতে ইরানকে ঘিরেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান রাখা হয়েছে। এতে ১৯৯৬ সালের ইরান নিষেধাজ্ঞা আইনের মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
এই আইনের আওতায় ইরানের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারী কোম্পানিগুলোকে শাস্তির মুখে পড়তে হয়।
সিনেটে বিপুল ভোটে বিলটি পাস হলেও এটি এখনো চূড়ান্ত আইনে পরিণত হয়নি। প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদনের পর প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর হলে তবেই এটি কার্যকর হওয়ার পথে যাবে।
বিলটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। বিশেষ করে রুশ জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে ভারত ও চীনের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হতে পারে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর