• ঢাকা
  • ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ০৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:৫৯ দুপুর

গাছে সত্যিই কি টাকা ফলে? এর পেছনে কী গল্প

ছবি: প্রতিকী ছবি

ছোটবেলা থেকে আমরা শুনে আসছি—‘টাকা কি আর গাছে ফলে?’ বাস্তবে গাছের ডালে নোট বা কয়েন ফলার কোনো প্রশ্নই নেই। কিন্তু পৃথিবীর কয়েকটি জায়গায় এমন কিছু গাছ রয়েছে, যেগুলো দূর থেকে দেখলে সত্যিই মনে হবে, গাছের কাণ্ডে যেন টাকার ফলন হয়েছে!

এসব গাছ পরিচিত ‘কয়েন ট্রি’ নামে। তবে এগুলো কোনো বিশেষ প্রজাতির গাছ নয়। বরং মানুষের বিশ্বাস, লোকাচার ও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের কারণে গাছের কাণ্ডে অসংখ্য মুদ্রা আটকে যাওয়ার ফলে তৈরি হয়েছে এমন অদ্ভুত দৃশ্য।

গাছের গায়ে কয়েন গাঁথার শুরু কীভাবে?

ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের বিভিন্ন এলাকায় এমন গাছের সন্ধান পাওয়া যায়, যেগুলোর কাণ্ডে বছরের পর বছর ধরে মানুষ কয়েন গেঁথে আসছেন। কোথাও ছোট পেনি, কোথাও তুলনামূলক বড় মুদ্রা—বিভিন্ন ধরনের কয়েন গাছের ছালে এমনভাবে আটকে রয়েছে যে কাণ্ডের বড় অংশই ধাতব মুদ্রায় ঢাকা পড়ে গেছে।

এই প্রথার শিকড় মূলত লোকবিশ্বাস ও প্রাচীন আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, কিছু গাছকে একসময় বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন বা পবিত্র বলে মনে করা হতো। মানুষ বিশ্বাস করতেন, গাছের কাছে প্রার্থনা করলে অসুস্থতা, দুর্ভাগ্য বা জীবনের নানা সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।

কেউ সেই প্রার্থনার প্রতীক হিসেবে গাছের কাণ্ডে একটি মুদ্রা গেঁথে দিতেন। কোথাও আবার সৌভাগ্য কামনা বা কোনো ইচ্ছা পূরণের আশায় এই কাজ করার প্রচলন তৈরি হয়।

কয়েন ট্রি, ছবি: সংগৃহীত

তবে সব ‘কয়েন ট্রি’-র ইতিহাস একই নয়। কোন গাছে কেন কয়েন গাঁথা শুরু হয়েছিল, তার সুনির্দিষ্ট কারণ সব ক্ষেত্রেই জানা যায় না। অনেক গাছকে ঘিরে স্থানীয় লোককথা ও ঐতিহ্যই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই প্রথাকে টিকিয়ে রেখেছে।

কয়েন গাছের গায়ে গেঁথে দেওয়ার পর সেগুলো চিরকাল শুধু ছালের ওপর পড়ে থাকে না। সময়ের সঙ্গে গাছের কাণ্ড ও ছাল বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে মুদ্রার কিছু অংশ ধীরে ধীরে নতুন কাঠ ও ছালের স্তরের মধ্যে ঢুকে যেতে পারে।
এই কারণেই কয়েক দশক বা তারও বেশি পুরোনো কোনো ‘কয়েন ট্রি’-তে মুদ্রাগুলোকে গাছের শরীরের অংশ বলে মনে হয়। কোথাও আবার এত বেশি কয়েন ব্যবহার করা হয়েছে যে কাণ্ডের ওপরের অংশ প্রায় ধাতব আবরণে পরিণত হয়েছে।

তবে এটিকে গাছের কোনো স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা ঠিক নয়। মুদ্রা গাছের শরীরে তৈরি হয় না; মানুষের গেঁথে দেওয়া মুদ্রাই গাছের বৃদ্ধির সঙ্গে আংশিকভাবে কাণ্ডের মধ্যে ঢুকে যায়।

কয়েন খুলে নিলে নাকি দুর্ভাগ্য আসে?

কয়েন ট্রিকে ঘিরে সবচেয়ে আকর্ষণীয় লোকবিশ্বাসগুলোর একটি হলো—গাছের গায়ে একটি মুদ্রা গেঁথে দেওয়ার পর সেটি খুলে নেওয়া উচিত নয়। কিছু স্থানীয় বিশ্বাসে বলা হয়, কেউ যদি নিজের ইচ্ছা বা প্রার্থনার প্রতীক হিসেবে মুদ্রা গাছের গায়ে রেখে যান, তা তুলে নিলে সেই ব্যক্তির দুর্ভাগ্য হতে পারে। অবশ্য এসব বিশ্বাসের পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

তারপরও লোকবিশ্বাসের শক্তি এতটাই প্রবল যে অনেক দর্শনার্থী গাছের গায়ে থাকা পুরোনো কয়েন স্পর্শও করেন না। বরং নিজেরাও একটি মুদ্রা রেখে ঐতিহ্য অনুসরণ করেন।

একটি গাছের কাণ্ডে শত শত বা হাজার হাজার কয়েন আটকে থাকার দৃশ্য নিঃসন্দেহে অস্বাভাবিক। তাই এসব গাছ স্থানীয় লোকসংস্কৃতির পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। দর্শনার্থীরা গাছের ইতিহাস জানতে, ছবি তুলতে এবং অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের ইচ্ছা বা সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে একটি কয়েন রেখে যেতে সেখানে যান।

এভাবে একটি সাধারণ গাছও ধীরে ধীরে স্থানীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতীক হয়ে উঠতে পারে।

এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। গাছের কাণ্ডে কয়েন গেঁথে দেওয়া নিছক মজার ব্যাপার মনে হলেও, এটি গাছের ক্ষতি করতে পারে।
কাণ্ডে কোনো ধারালো বস্তু ঢোকানোর ফলে গাছের ছাল ও জীবন্ত টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ক্ষতস্থান দিয়ে রোগজীবাণু বা ছত্রাক প্রবেশের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একইভাবে বারবার পেরেক, কয়েন বা অন্য কোনো ধাতব বস্তু গেঁথে দিলে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতেও সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তাই কোনো পুরোনো ‘কয়েন ট্রি’ দেখতে গেলে সেখানে নতুন করে কয়েন গেঁথে দেওয়ার আগে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা সংরক্ষণ নির্দেশনা মেনে চলাই ভালো।

‘কয়েন ট্রি’ শব্দটি বিশেষভাবে ব্রিটেনের কিছু ঐতিহাসিক ও লোকবিশ্বাস-জড়িত গাছের ক্ষেত্রে জনপ্রিয় হলেও, গাছের সঙ্গে মুদ্রা রেখে ইচ্ছা পূরণের মতো লোকাচার পৃথিবীর বিভিন্ন সংস্কৃতিতেই দেখা যায়। কোথাও গাছের গায়ে মুদ্রা আটকে দেওয়া হয়, কোথাও গাছের গোড়ায় কয়েন রেখে যাওয়া হয়, আবার কোথাও কাপড়, ফিতা বা অন্য কোনো প্রতীকী বস্তু গাছের সঙ্গে বাঁধা হয়। এসব প্রথার পেছনে স্থানীয় বিশ্বাস, ধর্মীয় ধারণা ও সংস্কৃতির ভূমিকা রয়েছে।

কয়েন ট্রি, ছবি: সংগৃহীত

সত্যিই কি ‘টাকা ফলে’ এই গাছে?

না। কয়েন ট্রি কোনো বিশেষ জাতের গাছ নয় এবং গাছের ভেতর থেকেও মুদ্রা তৈরি হয় না। মানুষের দীর্ঘদিনের প্রথা ও গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে মুদ্রাগুলো কাণ্ডের সঙ্গে এমনভাবে আটকে যায় যে দূর থেকে দেখে মনে হয়, গাছের গায়েই যেন টাকা ফলেছে।
তবে এর গুরুত্ব শুধু অদ্ভুত দৃশ্যের কারণে নয়। এসব গাছ মানুষের পুরোনো বিশ্বাস, স্থানীয় ইতিহাস, লোককথা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে আছে।

‘টাকা কি গাছে ফলে?’—প্রশ্নটির উত্তর অবশ্যই ‘না’। কিন্তু মানুষের বিশ্বাস আর ইতিহাস কখনও কখনও এমন দৃশ্য তৈরি করতে পারে, যা সেই পুরোনো কথাটিকেই চোখের সামনে সত্যি বলে মনে করায়।

রহস্যময় ‘কয়েন ট্রি’ আসলে প্রকৃতির কোনো জাদু নয়; এটি মানুষের বিশ্বাস, প্রার্থনা, লোকাচার এবং সময়ের সঙ্গে গাছের বেড়ে ওঠার এক বিস্ময়কর সম্মিলন। তবে এই ঐতিহ্য দেখতে গিয়ে নতুন করে কোনো গাছের গায়ে কয়েন, পেরেক বা অন্য কিছু গেঁথে দেওয়া উচিত নয়—কারণ মানুষের ঐতিহ্য রক্ষা করতে গিয়ে যেন গাছটির ক্ষতি না হয়।

বাপ্পি/সা.এ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]