কুমিল্লায় এক নারীকে হত্যার পর লাশ টুকরা টুকরা করে পলিথিনে মুড়িয়ে ৯টি প্যাকেট করে বাড়ির পিছনে ফেলে রাখে। শনিবার (৮ আগষ্ট) জেলার দেবিদ্ধার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ৯টি প্যাকেট উদ্ধার করলেও পা ও মাথা এখনো উদ্ধার করতে পারেনি। এ ঘটনায় লাইলী আক্তার নামে এক ভাড়াটিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। আটক লাইলী আক্তার আগেও শিশুহত্যা মামলার আসামি ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর দেবীদ্বার এলাকায় সাত বছর বয়সী ফাহিমা নামের এক শিশুহত্যার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। শিশু হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর লাইলী দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন। সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আবার দেবীদ্বার পৌর এলাকার চাপানগরে বসবাস শুরু করেন। ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে লাইলীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
মামলার এজাহার ও তদন্ত–সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, শিশুটি তাঁর বাবা আমির হোসেনের সঙ্গে লাইলী আক্তারের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি দেখে ফেলেছিল। পরে শিশুটিকে হত্যা করে বস্তাবন্দী করে কাচিসাইর পুলের নিচে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর ১৪ নভেম্বর বস্তাবন্দী অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর লাইলী দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন। সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আবার দেবীদ্বার পৌর এলাকার চাপানগরে বসবাস শুরু করেন। এরপর ১ আগস্ট ফরিদা ইয়াসমিনের বাড়ির টিনের ঘর ভাড়া নেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী আক্তার হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে তিনি আরও চারজনের নাম বলেছেন। ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের তাঁর স্বামী মফিজুল ইসলাম গতকাল রাতে বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় হত্যা মামলা করেছেন। এতে আসামি হিসেবে লাইলী আক্তারসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী আক্তার হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে তিনি আরও চারজনের নাম বলেছেন। তবে তাঁদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি পুলিশ এখনো তদন্ত করে দেখছে। প্রাথমিকভাবে স্বর্ণালংকারসহ মালামাল লুটের উদ্দেশ্যে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। নিহত ফরিদা ইয়াসমিনের স্বামী মফিজুল ইসলাম জাহাজে চাকরি করেন। দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়ে গেছে। ফলে ফরিদা ইয়াসমিন বাড়িতে একাই থাকতেন।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পলিথিনে মোড়ানো ফরিদা ইয়াসমিনের খণ্ডিত মরদেহের ৯টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মাথা ও পা এখনো পাওয়া যায়নি। আটক লাইলী আক্তারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও চারজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন- হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। মরদেহের উদ্ধার করা অংশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর