মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং আগামী সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। এর আগে গত শুক্রবার সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল মূল্যবান এই ধাতুটির দাম।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টার দিকে স্পট গোল্ডের দাম ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩২২.২৮ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৮১.৬০ ডলারে দাঁড়ায়।
এর আগে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল কর্মসংস্থান তথ্য প্রকাশের পর স্বর্ণের দাম ১৭ জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। জুলাইয়ে দেশটির অর্থনীতি অপ্রত্যাশিতভাবে কর্মসংস্থান হারায়। পাশাপাশি আগের দুই মাসের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হিসাবও বড় ধরনের সংশোধন করে কমানো হয়েছে।
দুর্বল কর্মসংস্থান পরিস্থিতির কারণে সেপ্টেম্বরে ফেডের সুদহার কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে বাজারের প্রত্যাশায়ও পরিবর্তন এসেছে। আগামী ১৫-১৬ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে সুদহার কমানোর সম্ভাবনা এখন ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।
সাধারণত সুদহার কমার সম্ভাবনা বাড়লে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে। কারণ স্বর্ণ থেকে কোনো সুদ পাওয়া যায় না। ফলে সুদহার কমলে সুদ-আয়কারী সম্পদের তুলনায় স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগ ব্যয়ও কমে যায়।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, গত সপ্তাহে দুর্বল মার্কিন কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের প্রভাবে স্বর্ণের দাম শক্তিশালীভাবে বাড়ার পর এখন কিছুটা মুনাফা তুলে নেওয়া হচ্ছে। তবে এটিকে বাজারের বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন না তিনি। তার মতে, স্বর্ণের দাম নিকট মেয়াদে ৪ হাজার ৩০০ ডলারের ওপরে শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পারে।
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্যের মধ্যে বুধবার ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) এবং বৃহস্পতিবার উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) প্রকাশিত হবে। মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল হলে ফেডের সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। এতে স্বর্ণের দাম আরও বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও স্বর্ণের বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ইরান জানিয়েছে, ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথ নির্ধারণের বিষয়ে তারা একটি চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে তেহরানের দাবি, কৌশলগত এই জলপথ পুনরায় খুলে দিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে।
এদিকে সোমবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট রুপার দাম ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৩.৪৫ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ০.১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৪২.৫০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৬২.৯৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর