এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ মানেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস। আর সেই আনন্দের অন্যতম অনুষঙ্গ মিষ্টি। তাই ফল প্রকাশের দিন এলেই স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে মিষ্টির চাহিদা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সোমবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর রাজধানীর বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে বেড়েছে ক্রেতার আনাগোনা।
সাধারণত এসএসসি ও এইচএসসির ফল প্রকাশের দিনে মিষ্টির বিক্রি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, এবারও সকাল থেকেই সেই চিত্র দেখা গেছে। ফল প্রকাশের পরপরই অনেক দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করে।
মালিবাগ চৌধুরীপাড়া এলাকার ফুলকলি মিষ্টির দোকানের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ইমন হোসেন বলেন, ফল প্রকাশের পর থেকেই তাদের দোকানে বিক্রি বাড়তে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ‘ফল প্রকাশ উপলক্ষে আমরা আগে থেকেই কিছুটা বাড়তি প্রস্তুতি নিয়েছি। মূল বিক্রি অবশ্য দুপুরের পর আরও বাড়বে বলে আশা করছি। সাধারণ দিনের তুলনায় এসএসসির ফল প্রকাশের দিন আমাদের দোকানে দ্বিগুণের বেশি মিষ্টি বিক্রি হয়।’
বাড়তি চাহিদার জন্য আগেই প্রস্তুতি
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রাণ গ্রুপের মিষ্টির ব্র্যান্ড মিঠাইয়ের বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। ফল প্রকাশের দিন সকালেই এসব কেন্দ্রের কয়েকটিতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে।
মালিবাগের আবুল হোটেল এলাকার মিঠাই বিক্রয়কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল কাদের বলেন, ফল প্রকাশ উপলক্ষে তারা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি মিষ্টি বিক্রির প্রস্তুতি নিয়েছেন।
তার ভাষ্য, ‘সাধারণ সময়ের তুলনায় এবার তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত মিষ্টি বিক্রি হতে পারে। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সকাল থেকেই ক্রেতারা আসছেন। ঢাকার অন্যান্য এলাকাতেও বিক্রি বেড়েছে।’
তিনি জানান, পরীক্ষার ফলকে ঘিরে মিষ্টির বাড়তি চাহিদা শুধু ফল প্রকাশের দিনেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পরবর্তী এক-দুই দিনও বিক্রি তুলনামূলক বেশি থাকে।
মিঠাইয়ের ঢাকার বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ টন মিষ্টি বিক্রি হয়। তবে এসএসসির ফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে এবার বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্রে স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণ থেকে চার গুণ পর্যন্ত মিষ্টি সরবরাহ করা হয়েছে।
সন্তানের সাফল্যের আনন্দ ভাগাভাগি
ফল প্রকাশের পর মিষ্টি কিনতে আসা অভিভাবকদের অনেকের কাছেই মিষ্টি কেনা শুধু একটি রীতি নয়, বরং সন্তানের সাফল্য সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার একটি মাধ্যম। আবুল হোটেল এলাকার রয়েল ডেইরি ফার্ম থেকে মিষ্টি কিনতে এসেছিলেন ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলের এক শিক্ষার্থীর মা। তার ছেলে জিপিএ ৪.৬ পেয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ছেলের ফল ভালো হয়েছে। তাই আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে বিতরণ করার জন্য মিষ্টি কিনতে এসেছি। সন্তানের সাফল্যের আনন্দটা সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই।’
তার মতো অনেক অভিভাবকই ফল প্রকাশের পর মিষ্টির দোকানে ছুটছেন। কেউ আত্মীয়দের জন্য, কেউ প্রতিবেশীদের জন্য, আবার কেউ শিক্ষার্থী ও বন্ধুদের মধ্যে বিতরণের জন্য মিষ্টি কিনছেন।

ফলাফলেও বদল এসেছে
সোমবার সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী এবার গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী।
গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। তবে ফল প্রকাশের আনন্দে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। শিক্ষার্থীদের সাফল্যকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মিষ্টির দোকানগুলোতে বরং বেড়েছে ব্যস্ততা।
ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তির মাধ্যমে মুহূর্তেই ফলাফল জানার সুযোগ তৈরি হলেও সন্তানের সাফল্যে মিষ্টি বিতরণের পুরোনো সংস্কৃতিটি এখনো টিকে আছে। সেই কারণেই ফল প্রকাশের দিনে মিষ্টির দোকানগুলোতেও তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর