বাবা ও দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারসঙ্গী হোর্হে মেসির মৃত্যুতে শোকাহত লিওনেল মেসি। বাবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময়ও পিছিয়ে দিয়েছেন ইন্টার মায়ামির আর্জেন্টাইন তারকা। পরিবারের সঙ্গে আরও কিছুটা ব্যক্তিগত সময় কাটাতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
রোজারিওর কাছের শহর পেরেজের এল প্রাদো সমাধিক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে ব্যক্তিগত আয়োজনের মধ্য দিয়ে হোর্হে মেসিকে শেষ বিদায় জানানো হয়। শনিবার রাতে আর্জেন্টিনায় ফেরেন মেসি। এরপর বাবাকে যেখানে সমাহিত করা হয়েছে, সেখানে সারারাত অবস্থান করেন তিনি। রোববার বিকেলে সমাধিক্ষেত্র ছাড়েন ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা।
কয়েক ঘণ্টা পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেন্টাকির ফুনেস শহরের একটি সুরক্ষিত আবাসিক কমপ্লেক্সে নিজ বাসায় ফেরেন মেসি। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ইনফোবে জানিয়েছে, পুরো আয়োজনটি ছিল অত্যন্ত গোপনীয়। মেসির মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে সাধারণত যে ধরনের ভিড় ও গণমাধ্যমের উপস্থিতি দেখা যায়, এবার তার প্রায় কিছুই ছিল না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার রাতে ফোর্ট লডারডেল থেকে একটি চার্টার্ড বিমান ফিশারটনের আইসলাস মালভিনাস বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও সন্তানদের নিয়ে সরাসরি পেরেজের সমাধিক্ষেত্রে যান মেসি। সেখানে তার ভাই ও ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে মিলিত হন তিনি।
অনেকটা নীরব ও ব্যক্তিগত পরিবেশেই সম্পন্ন হয় হোর্হে মেসির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। সেখানে অল্পসংখ্যক দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন। শিশুরাও ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে কিছু স্মারক রেখে যায়। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে পাঠানো হয় ফুলের তোড়া। জাতীয় দলের কয়েকজন কোচিং স্টাফও উপস্থিত ছিলেন।
মেসির পরিবারের গাড়িবহর সমাধিক্ষেত্রে প্রবেশের সময় উপস্থিত এক দর্শনার্থী চিৎকার করে বলেন, ‘শক্ত থাকো লিও।’ সমাধিক্ষেত্রের পাশের গেটে টানানো একটি ব্যানারেও একই বার্তা লেখা ছিল।
রোজারিওর শীতল রাতের নীরবতায় কোনো ধরনের হইচই ছাড়াই বাবাকে শেষ বিদায় জানান মেসি। পুরো আয়োজনজুড়েই শহরের মানুষ তার পারিবারিক গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখিয়েছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থেকেছে।
রোববার এল প্রাদো থেকে মেসি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বের হওয়ার পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন, দুপুরের আগেই তারা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হবেন। কিন্তু মেসিকে ছাড়াই একটি বিমান উড়ে যায়। বিকেল ৩টার আগে কেন্টাকির সুরক্ষিত আবাসিক কমপ্লেক্সের সামনে মেসি ও তার পরিবারের দেখা মেলেনি।
সে সময় সেখানে ডজনখানেক সাংবাদিকের উপস্থিতি ছিল। প্রতিবেশীরাও জানতেন, মেসি ও তার পরিবার ওই এলাকায় অবস্থান করছেন। তবে তারাও তার ব্যক্তিগত মুহূর্তের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ছবি তোলা কিংবা গোপনীয়তা লঙ্ঘনের কোনো চেষ্টা করেননি।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর