রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউক্রেন ছেড়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেওয়া এবং অস্থায়ী সুরক্ষা পাওয়া মানুষের সংখ্যা জুনের শেষ নাগাদ ৪৪ লাখ ১০ হাজারে পৌঁছেছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ অবস্থান করছেন জার্মানিতে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ইইউর পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু।
ইউরোস্ট্যাট জানিয়েছে, মে মাসের শেষের তুলনায় জুনে অস্থায়ী সুরক্ষার আওতায় থাকা ইউক্রেনীয়দের সংখ্যা ২৪ হাজার ৩৮০ জন বেড়েছে। অর্থাৎ এক মাসে এই সংখ্যা বেড়েছে ০.৬ শতাংশ।
অস্থায়ী সুরক্ষা পাওয়া ইউক্রেনীয়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন জার্মানিতে। দেশটিতে এ ধরনের সুরক্ষার আওতায় আছেন ১২ লাখ ৮০ হাজার মানুষ, যা ইইউতে মোট অস্থায়ী সুরক্ষা পাওয়া মানুষের ২৯.২ শতাংশ।
এর পরের অবস্থানে রয়েছে পোল্যান্ড ও চেকিয়া। পোল্যান্ডে অস্থায়ী সুরক্ষা পেয়েছেন ৯ লাখ ৬১ হাজার ১৭০ জন, যা ইইউর মোট সংখ্যার ২১.৮ শতাংশ। আর চেকিয়ায় রয়েছেন ৩ লাখ ৯০ হাজার ৮১০ জন, যা মোট সংখ্যার ৮.৯ শতাংশ।
ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, মে থেকে জুনের মধ্যে ইইউর ২৭টি সদস্যদেশের মধ্যে ২৪টিতেই অস্থায়ী সুরক্ষা পাওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েছে।
জনসংখ্যার তুলনায় অস্থায়ী সুরক্ষা পাওয়া মানুষের হার সবচেয়ে বেশি চেকিয়ায়। দেশটিতে প্রতি ১ হাজার বাসিন্দার বিপরীতে ৩৫.৮ জন এই সুরক্ষার আওতায় রয়েছেন। এরপর রয়েছে স্লোভাকিয়া, যেখানে প্রতি ১ হাজারে এই সংখ্যা ২৭.২ জন। সাইপ্রাসে হার ২৬.৮ জন। বিপরীতে ইইউর গড় হার প্রতি ১ হাজার বাসিন্দায় ৯.৮ জন।
জুনের শেষ নাগাদ ইইউতে অস্থায়ী সুরক্ষা পাওয়া মানুষের ৯৮.৫ শতাংশের বেশি ইউক্রেনের নাগরিক। এদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক নারী ৪৩.৪ শতাংশ, প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ২৭ শতাংশ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ২৯.৬ শতাংশ।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউক্রেন থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হলে তাদের দ্রুত সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে ২০২২ সালের মার্চে ইউরোপীয় কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে অস্থায়ী সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুনে ইউরোপীয় কাউন্সিল এই সুরক্ষার মেয়াদ আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইউক্রেন থেকে যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের জন্য অস্থায়ী সুরক্ষা ব্যবস্থা ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা রয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু, ইউরোস্ট্যাট
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর