পঞ্চগড়ে লিভার রিপোর্ট নিয়ে প্রতারণা এবং লাইসেন্স না থাকা সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের একদিন পর পঞ্চগড় মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দিয়ে বন্ধ ঘোষণা করেন এবং নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে, গতকাল ১১ আগস্ট বুধবার লিভার রিপোর্ট প্রতারণা এবং নিবন্ধন না থাকায় স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা পঞ্চগড় মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন।
জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট তারিখে সাইদুজ্জামান রেজা নামের এক রোগীর লিভার প্রদাহ শনাক্তের জন্য এসজিপিটি পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ ওঠে। পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন এর স্মারক নং-সিএ-স/পঞ্চ/প্রশা/২০২৬/৯৪৫ তারিখ ১২ আগস্ট অনুযায়ী, লাইসেন্স না থাকায় অত্র মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করার নির্দেশের প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটি সাময়িক ভাবে বন্ধ করা হয়েছে। এই নোটিশ জারির পরে মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিজেরাই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়।
উল্লেখ্য, ১০ আগস্ট রোববার লিভার রোগে আক্রান্ত রোগী সাইদুজ্জামান রেজা লিভার পরীক্ষা করান পঞ্চগড় মকবুলার রহমান ডায়াবেটিক হাসপাতালে। সেখানে তার লিভার এসজিপিটি পরীক্ষায় ১২৭ ইউএল শনাক্ত করা হয়। তার লিভারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে চিকিৎসকের পরামর্শে আবারও এসজিপিটি পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। ওই দিনই সাইদুজ্জামান রেজা (৪৪) মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এসজিপিটি পরীক্ষার জন্য রক্ত দিয়ে আবারও পরীক্ষা করান। সেখানে এসজিপিটি রিপোর্টে মাত্র ২৬.৭ ইউএল পাওয়া যায়। এতে সাইদুজ্জামান রেজা ডায়াবেটিক হাসপাতালের এসজিপিটি রিপোর্টের সাথে মেডিকেয়ার ডায়াবেটিক সেন্টারের রিপোর্টে অনেক বেশি ব্যবধান হওয়ায় মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট নিয়ে সন্দেহ হয়। পরে তার লিভারের সঠিক অবস্থা জানতে আবারও চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। এ সময় চিকিৎসক আবারও এসজিপিটি পরীক্ষার পরামর্শে পরদিন গতকাল ১০ আগস্ট সোমবার সঠিক পরীক্ষার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে তৃতীয় বারের মত এসজিপিটি পরীক্ষা করান। সেখানে তার এসজিপিটি পরীক্ষার রিপোর্টে ১২১ ইউএল পাওয়া যায়। এ নিয়ে তার সাথে প্রতারণা হয়েছে মর্মে সাইদুজ্জামান রেজা মঙ্গলবার ১১ আগস্ট সকালে পঞ্চগড় সিভিল সার্জন বরাবর মেডিকেয়ার সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে লিখিত দেন।
পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান জানান, মেডিকেয়ার সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা সরজমিনে গিয়ে তদন্ত করে তাদের কাগজপত্র যাচাই করি। তাদের কোনো বৈধ কাগজপত্র ও লাইসেন্স না থাকার কারণে মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কাগজপত্র ঠিক না করা পর্যন্ত তারা ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি চালাতে পারবে না।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর