কুমিল্লার মহাসড়কসংলগ্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় শত শত পণ্যবোঝাই কাভার্ডভ্যান, ট্রাক, লরি ও আঞ্চলিক গণপরিবহন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চৌদ্দগ্রাম থেকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার পর্যন্ত ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
গ্যাস সংকটে ফেনী ও কুমিল্লার আঞ্চলিক সড়কের অধিকাংশ গণপরিবহনও প্রায় বন্ধ। গতকাল বুধবার দুপুরে গাজীপুর থেকে গার্মেন্টস পণ্যবোঝাই করে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন কাভার্ডভ্যান চালক জয়নাল আবেদীন। রাতের বেলা কুমিল্লার অংশে প্রবেশ করলে তাঁর গাড়ির গ্যাস শেষ হয়ে যায়। গ্যাস নেওয়ার জন্য তিনি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার এডভান্স সিএনজি ফিলিং স্টেশনে প্রবেশ করেন। আজ দুপুর গড়িয়ে গেলেও তিনি গ্যাস পাননি।
জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘বুধবার রাত ২টা থেকে গ্যাসের জন্য পাম্পে দাঁড়িয়ে আছি, আজও গ্যাস পাইনি।’ সময়মতো বন্দরে পণ্য পৌঁছাতে না পারলে শিপমেন্ট বাতিল হয়ে যেতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের দুই লেনের পাশে থাকা সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে শত শত পণ্যবোঝাই কাভার্ডভ্যান, ট্রাক, লরি ও আঞ্চলিক গণপরিবহন গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করছে। কোনো স্টেশনেই গ্যাস না পাওয়ায় গাড়ির লাইন আরও দীর্ঘ হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই বুধবার দুপুর থেকে আবারও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে হঠাৎ করেই গ্যাসচালিত পরিবহন সংকটে পড়ে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার তাজ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে পণ্যবোঝাই গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। সেখানে আবদুল খালেক নামে এক লরি চালক বলেন, রাতে চট্টগ্রাম ইপিজেড থেকে পণ্য নিয়ে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন তিনি। পথিমধ্যে গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় ওই স্টেশনে ঢুকলেও গ্যাস পাননি।
আবদুল খালেক বলেন, ‘কখন গ্যাস পাব, তাও জানি না। সঠিক সময়ে মালামাল নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারব কিনা তাও জানি না।’
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে আঞ্চলিক গণপরিবহনেও। ফেনী ও কুমিল্লার আঞ্চলিক সড়কের অধিকাংশ গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই জেলার যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। বিশেষ করে অফিসগামী কর্মকর্তা, কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া রোগীদের ভোগান্তি বেশি হচ্ছে। চৌদ্দগ্রাম বাজারে গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষারত ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমার নিকটাত্মীয় কুমিল্লার একটি হাসপাতালে ভর্তি। তাঁকে দেখতে যাওয়া জরুরী। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। কিন্তু যাওয়ার মতো কোন গণপরিবহন পাচ্ছি না। গ্যাস সংকটের কারণে অধিকাংশ গাড়ি বন্ধ।’
চৌদ্দগ্রাম ট্রান্সপোর্ট নামে কাভার্ডভ্যানের মালিক ওবায়েদ পাটোয়ারী বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে তাঁদের গাড়ির খরচ বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘যে গাড়ি পণ্য নিয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে, সে গাড়ি এখন তিনদিনেও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। আমার বেশ কয়েকটি গাড়ির অধিকাংশই গ্যাসের জন্য বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে।
ফেনী-কুমিল্লা সড়কে চলাচলকারী আঞ্চলিক পরিবহন যমুনা মালিক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, হঠাৎ গ্যাস সংকটে অধিকাংশ গণপরিবহন বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে গাড়ির সংকট তৈরি হয়েছে। গণপরিবহন সংকটে দুই জেলার মানুষের চরম ভোগান্তি হচ্ছে, বিশেষ করে রোগী ও কলেজ শিক্ষার্থীদের। খোরশেদ আলম সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বলেন, ‘অন্তত গণপরিবহনগুলো সচল রাখার জন্য গ্যাস সরবরাহ যেন অব্যাহত রাখে।’
এ বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস বিপণন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মুর্তজা রহমান খানের সঙ্গে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর