পটুয়াখালীর বাউফলে গভীর রাতে এক গৃহবধূর ঘরে জামায়াতের এক কর্মী স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন। অভিযুক্ত আতিকুল ইসলাম উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়ন যুব জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবে পরিচিত এবং ওই গ্রামের সোবাহান হাওলাদারের ছেলে। তবে, সূর্যমণি ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মজিবুর রহমান বাচ্চু দাবি করেছেন আতিকুল ইসলাম জামায়াতের বা অঙ্গসংগঠনের কোন পদে নেই, কখনো ছিলেনও না।
বুধবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলা সূর্যমনি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিবেশী ওই গৃহবধূর স্বামী রাতে বাড়িতে ছিলেন না। গভীর রাতে ওই গৃহবধূর ঘরে উপস্থিত ছিলেন যুব জামায়াতের নেতা আতিকুল ইসলাম। তার উপস্থিতি বুঝতে পেরে চোর সন্দেহে গৃহবধূর শ্বশুর চিৎকার শুরু করেন। পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গৃহবধুর ঘরেই তাকে আটক করেন। এ ঘটনার খবর পেয়ে অভিযুক্ত আতিকের স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং উপস্থিত লোকজনকে হামলা করে, তাকে নিয়ে যান।
গৃহবধূর শ্বশুর আমির হোসেন হাওলাদার বলেন, জামায়াতের আতিক কিছুদিন আগে আমার পুত্রবধূর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। রাতে আমার চিৎকার শুনে পুত্রবধূর ঘর থেকে বের হয়ে কাঁপতে থাকেন আতিক। এরপর প্রতিবেশীরা এসে তাকে ওই ঘরে আটক করেন। তখন তড়িঘড়ি করে আতিক লুঙ্গি পরিবর্তন করে দ্রুত প্যান্ট পরেন।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আতিকুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি করেছেন, তিনি যুব জামায়াতের ইউনিয়ন কমিটির সেক্রেটারি। তাকে আপত্তিকর অবস্থায় সেখানে পাওয়া যায়নি। বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি ষড়যন্ত্র করে তার সন্মানহানী করছে বলে দাবি করেন তিনি।
সূর্যমণি ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ ইউসুফ হাওলাদার বলেন, তিনি জামায়াত করেন, এটা সঠিক। বুধবার রাতে তাকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করেছে গ্রামবাসী।
এ বিষয়ে সূর্যমনি ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মজিবুর রহমান বাচ্চু বলেন, অভিযুক্ত আতিকুল জামায়াত বা অঙ্গসংগঠনের কোনো পদে নেই। কখনো ছিলেনও না। তবে তিনি জামায়াত সংশ্লিষ্ট সকল সভাসমাবেশে উপস্থিত থাকতেন। রাতের ঘটনা নিশ্চিত ভাবে বলা মুশকিল। আমিতো সেখানে ছিলাম না। তবে ঘটনা সত্য হোক বা ষড়যন্ত্র সে বিষয়টি আইনের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত করে মূল অপরাধীর বিচারের দাবিও জানান তিনি।
এদিকে, উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনা একজন আমাকে অবহিত করেছেন। বিস্তারিত জানা নেই, তাই এখন কিছু বলতে পারছি না।
বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছে। ফোর্স পৌঁছানোর আগেই বিষয়টি দফারফা হয়েছে। তবে এ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর