কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার জিরুইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে (চতুর্থ শ্রেণি) শ্রেণিকক্ষে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে রাকিবুল ইসলাম নামের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
পড়া বলতে না পারার অজুহাতে গত রবিবার (৯ আগস্ট) ওই শিক্ষার্থীর স্পর্শকাতর স্থানে তিনি হাত দেন বলে অভিযোগ করেছে শিশুটির পরিবার।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো জিরুইন গ্রামে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অতীতেও একই ধরনের অপকর্মের রেকর্ড রয়েছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ক্লাসে রোল কল শেষে ওই ছাত্রীকে পড়া জিজ্ঞেস করেন অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক রাকিবুল ইসলাম। সে পড়া না পারায় শাস্তির নামে শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে তাকে হেনস্তা করা হয়। ওই দিন বিকেলেই ভুক্তভোগী ছাত্রীর দাদা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুকের কাছে গিয়ে অভিযোগ জানান এবং ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষক রাকিবুল ইসলামের এমন আচরণ এই প্রথম নয়। এর আগে নাইঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকা অবস্থায়ও এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনুরূপ জঘন্য কর্মকাণ্ড ঘটান তিনি। সেই ঘটনার শাস্তি হিসেবেই তাকে জিরুইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছিল। তবে শ্লীলতাহানির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক রাকিবুল ইসলাম। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনার দিন চতুর্থ শ্রেণিতে আমার প্রথম ক্লাস ছিল। রোল কলের পর ওই ছাত্রীর কাছে পড়া জানতে চাইলে সে বলতে পারেনি। আমি তাকে সাধারণ শাসন করেছি মাত্র। কোনো স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়া কিংবা অশ্লীল ঘটনার প্রশ্নই ওঠে না।
অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করেছেন জিরুইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক। ঘটনা সামাজিকভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ওই দিন বিকেলে ছাত্রীর দাদা আমার কাছে এসে বিচার চান। বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে তাৎক্ষণিকভাবে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য এবং বিষয়টি সুরাহার লক্ষ্যে পরদিন ১০ আগস্ট সময় নির্ধারণ করি। পরদিন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। সেখানে সহকারী শিক্ষক রাকিবুল ইসলাম নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর কোনো আইনগত পদক্ষেপ না নিয়ে কীভাবে ‘সামাজিক সালিশে’ নিষ্পত্তি করা হলো, তা নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ হালিমা পারভীন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে প্রধান শিক্ষক আমাকে অবহিত করেছেন। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং দুঃখজনক একটি ঘটনা। তবে প্রধান শিক্ষক পরে আমাদের জানিয়েছেন যে, ঘটনার পরদিন এটি সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি করে ফেলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হলে বা লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর