বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে আগামী ১৭ আগস্ট। ১৮০ দিনের কর্মসূচি শেষ হওয়ার প্রাক্কালে সরকারের কর্মকাণ্ড, মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি পর্যালোচনা চলছে। এ পর্যালোচনার পর মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের গুঞ্জন থাকলেও, সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্রগুলো বলছে, আপাতত বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা ক্ষীণ। বরং প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়াতে এবং কয়েকজন মন্ত্রীর ওপর থাকা অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপ কমাতে সীমিত পরিসরে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের চিন্তা করা হচ্ছে।
সরকারসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান মন্ত্রিসভার কাঠামো মোটামুটি অপরিবর্তিত রেখে নতুন চারজনকে যুক্ত করা হতে পারে। তবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের একমাত্র এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর। তিনি যখন প্রয়োজন মনে করবেন, তখনই তা কার্যকর হতে পারে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরদিন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরেন। সেই কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ১৬ আগস্ট। এরই মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় তাদের ছয় মাসের কর্মকাণ্ডের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এসব প্রতিবেদন মূল্যায়ন করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সরকারের শুরুতে তুলনামূলক বড় পরিসরে মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্ব বণ্টন করা হলেও কয়েকজন মন্ত্রীকে একাধিক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অর্থ ও পরিকল্পনা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক ও সমাজকল্যাণ, শিল্প-বাণিজ্য-বস্ত্র ও পাট, কৃষি-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং সড়ক-রেল-নৌপরিবহনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে একাধিক দায়িত্ব রয়েছে। ফলে প্রশাসনিক কাজের চাপ কমানো এবং নীতিনির্ধারণে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে নতুন মুখ যুক্ত করার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সেলিমা রহমান এমপি এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ এমপিকে মন্ত্রী হিসেবে যুক্ত করার সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শহিদুল ইসলাম বাবুল এমপি এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শামীম কায়সার লিংকন এমপিকে যুক্ত করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। এর বাইরে নির্ধারিত উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরাও সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছেন।
সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর দাবি, কাউকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। বরং ১৮০ দিনের কর্মসূচির মূল্যায়নের মাধ্যমে কোথায় কী ধরনের ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ প্রথম ধাপে বড় কোনো ‘রদবদল’ নয়, বরং সীমিত পরিসরে ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট’-এর সম্ভাবনাই বেশি।
মন্ত্রিপরিষদের একজন প্রভাবশালী সদস্য বলেন, আপাতত মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। ১৮০ দিনের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর সব মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন মূল্যায়ন করা হবে। একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের কাজের চাপ কমাতে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন করে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ১৮০ দিনের কর্মসূচি মূল্যায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী সরকারের কাজ ও মন্ত্রীদের কার্যক্রম বিভিন্ন মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করেছেন। আগামী দিনে মন্ত্রিসভায় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন মনে করলে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজস্ব বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবেন এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করবেন।
সব মিলিয়ে, প্রথম ছয় মাসের মূল্যায়নের পর বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তনের বদলে সীমিত সম্প্রসারণের সম্ভাবনাই আপাতত বেশি। নতুন চারজন যুক্ত হলে মূলত দায়িত্বের চাপ কমানো এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনাই হবে এর প্রধান উদ্দেশ্য।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর