• ঢাকা
  • ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১৬ সেকেন্ড পূর্বে
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:৩৫ রাত

অফিসের চাপ এসে পড়ছে পরিবারেও? ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালান্স ঠিক রাখবেন যেভাবে

ছবি: সংগৃহীত

সকাল থেকে টানা অফিস। একের পর এক মিটিং, ডেডলাইন, ইমেল আর কাজের চাপ সামলাতে সামলাতে কখন যে ১০-১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে, খেয়ালই নেই। ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়ি ফিরতেই সন্তানের আবদার, পরিবারের নানা প্রয়োজন কিংবা ঘরের ছোটখাটো সমস্যা—সব মিলিয়ে মেজাজ যেন মুহূর্তেই খারাপ হয়ে যায়।

অন্যদিকে, অফিসে বসের দেওয়া অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলাতে গিয়ে অনেকেই নিজের সামর্থ্যের সীমা ভুলে যান। ‘না’ বলতে না পারার কারণে কাজ জমতে থাকে, বাড়ে মানসিক চাপ। ধীরে ধীরে দেখা দেয় ক্লান্তি, কাজে ভুল, বিরক্তি এবং ব্যক্তিগত জীবনে অশান্তি।

এই পরিস্থিতির পেছনে অন্যতম কারণ হতে পারে ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালান্সের অভাব। অর্থাৎ পেশাগত দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ভারসাম্য না থাকা।

ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালান্স নষ্ট হলে কী হয়?

কাজের চাপ যখন ব্যক্তিগত জীবনের জায়গা দখল করে নেয়, তখন তার প্রভাব শুধু কর্মক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকে না। আবার পরিবারের সমস্যা বা ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনও কর্মক্ষেত্রে মনোযোগ নষ্ট করতে পারে। ফলে তৈরি হয় একটি চক্র—কাজের চাপ বাড়লে পরিবারকে সময় দেওয়া কমে, পরিবারে অশান্তি বাড়লে কাজে মন বসে না, কাজে ভুল বাড়লে আবার চাপ আরও বেড়ে যায়।

দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে শরীর ও মনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

শরীরে যে লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে

প্রায় সবসময় ক্লান্ত বা অবসন্ন লাগা, মাথাব্যথা বা শরীরে অস্বস্তি, ঘুমের সমস্যা, সকালে ঘুম থেকে উঠেও ক্লান্ত লাগা, হজমের সমস্যা বা পেটের অস্বস্তি, কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা ইত্যাদি।

মনের ওপর প্রভাব পড়ে যেভাবে

সবসময় কাজ নিয়ে দুশ্চিন্তা করা, খিটখিটে মেজাজ, সামান্য বিষয়েও বিরক্ত বা রেগে যাওয়া, কাজ থেকে বিরতি নিলে অপরাধবোধ হওয়া, বিশ্রাম নেওয়ার সময়ও অফিসের কথা মাথায় ঘুরতে থাকা ইত্যাদি।

আচরণেও আসতে পারে পরিবর্তন

ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালান্স নষ্ট হলে অনেকেই অবচেতনভাবে সবসময় অফিসের ইমেল, মেসেজ বা নোটিফিকেশন পরীক্ষা করতে থাকেন। ছুটিতে থাকলেও অফিসে কী হচ্ছে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়েও অতিরিক্ত দায়িত্ব নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। 
একই সঙ্গে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা কিংবা নিজের পছন্দের কাজ করার সময়ও কমে যায়।

তাহলে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনবেন যেভাবে

ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালান্স ঠিক করার জন্য সবকিছু একদিনে বদলে ফেলার প্রয়োজন নেই। বরং দৈনন্দিন রুটিনে কয়েকটি বাস্তবসম্মত পরিবর্তন ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত করা যেতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত

১. কাজের অগ্রাধিকার ঠিক করুন

দিনের শুরুতেই সব কাজ একসঙ্গে করার চেষ্টা না করে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আগে নির্ধারণ করুন। কোন কাজটি আজই শেষ করতে হবে, কোনটি পরে করা যাবে এবং কোন কাজ অন্য কাউকে দেওয়া সম্ভব—তা আলাদা করে নিন। একই নিয়ম ব্যক্তিগত জীবনেও প্রয়োগ করা যায়। সব দায়িত্ব একসঙ্গে সামলানোর চেষ্টা করলে চাপ বাড়বে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ ভাগ করে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

২. একই ধরনের কাজ একসঙ্গে করুন

সময় ব্যবস্থাপনার একটি সহজ কৌশল হলো একই ধরনের কাজ একসঙ্গে করা। যেমন, একাধিক ইমেলের উত্তর দেওয়ার থাকলে সেগুলো একটি নির্দিষ্ট সময়ে একসঙ্গে সেরে নিতে পারেন। একইভাবে ফোনকল, রিপোর্ট তৈরি বা ডকুমেন্ট পর্যালোচনার জন্য আলাদা সময় রাখলে বারবার কাজ বদলানোর ঝামেলা কমে।

৩. একটানা কাজ করবেন না

দীর্ঘ সময় বিরতিহীনভাবে কাজ করলে মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই কাজের মাঝে ছোট বিরতি নেওয়া জরুরি। ডেস্ক থেকে উঠে একটু হাঁটা, পানি পান করা বা কয়েক মিনিট চোখকে বিশ্রাম দেওয়া উপকারী হতে পারে।

৪. দিনের কাজ আগে থেকেই পরিকল্পনা করুন

প্ল্যানার, নোটবুক বা ডিজিটাল ক্যালেন্ডার ব্যবহার করে দিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো লিখে রাখুন। কখন অফিসের কাজ করবেন, কখন বিশ্রাম নেবেন এবং কখন পরিবার বা নিজের জন্য সময় রাখবেন—আগে থেকেই পরিকল্পনা করলে সময়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ে। তবে পরিকল্পনাটি যেন এতটাই কঠোর না হয় যে একটি কাজ পিছিয়ে গেলেই পুরো দিনটাই ব্যর্থ মনে হয়।

 ৫. অফিস আর ব্যক্তিগত জীবনের সীমারেখা তৈরি করুন

সম্ভব হলে অফিসের কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন। কাজের সময় শেষ হওয়ার পর জরুরি পরিস্থিতি না হলে অফিসের ইমেল বা মেসেজ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। অবশ্য চিকিৎসক, পুলিশ, দমকলকর্মী, সাংবাদিকসহ অনেক পেশায় সবসময় এই সীমারেখা মেনে চলা সম্ভব নয়। তাঁদের ক্ষেত্রে ছুটির সময় যথাসম্ভব পেশাগত যোগাযোগ থেকে দূরে থাকার সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।

৬. সব কাজের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেবেন না

কাজের চাপ সামলাতে গিয়ে অনেকেই ‘না’ বলতে পারেন না। কিন্তু নিজের সামর্থ্যের বাইরে নিয়মিত দায়িত্ব নেওয়া দীর্ঘমেয়াদে মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। কোনো কাজ নেওয়া সম্ভব না হলে ভদ্রভাবে নিজের সীমাবদ্ধতার কথা জানান। প্রয়োজনে সময় বাড়ানোর অনুরোধ করুন বা কাজ ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব দিন। কর্মক্ষেত্রের মতো ব্যক্তিগত জীবনেও নিজের সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন।

৭. পরিবার ও বন্ধুদের সময় দিন

কাজের বাইরে কাছের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সেই সময়ে অফিসের আলোচনা বা ফোন থেকে দূরে থেকে পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে কথা বলা, বাইরে হাঁটতে যাওয়া বা একসঙ্গে খাবার খাওয়ার মতো সাধারণ কাজও মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

৮. নিজের জন্যও সময় রাখুন

প্রতিদিন কিছুটা সময় শুধু নিজের জন্য রাখা দরকার। বই পড়া, গান শোনা, ছবি আঁকা, বাগান করা, রান্না করা কিংবা পছন্দের অন্য কোনো কাজে সময় দিতে পারেন। এ সময়টিকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ মনে করার কারণ নেই। নিজের পছন্দের কাজ করার সুযোগ মানসিক বিশ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

৯. শরীরচর্চা ও শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন

নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। হাঁটা, হালকা ব্যায়াম, স্ট্রেচিং কিংবা নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী অন্য কোনো শরীরচর্চা রুটিনে রাখা যেতে পারে। মানসিক চাপের সময় ধীরে গভীর শ্বাস নেওয়ার মতো সহজ শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলনও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে স্বস্তি দিতে পারে।

কখন বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া দরকার?

কাজের চাপ বা ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যা সাময়িকভাবে সবারই হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের সমস্যা, অতিরিক্ত উদ্বেগ, ক্রমাগত মন খারাপ, কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলা কিংবা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে বিষয়টিকে অবহেলা করা উচিত নয়।

এ ক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞানী বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁরা চাপ সামলানো, সময় ব্যবস্থাপনা, সীমারেখা তৈরি এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার কৌশল নিয়ে সহায়তা করতে পারেন।

ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালান্স মানে অফিসের কাজ কমিয়ে দেওয়া বা ব্যক্তিগত জীবনকে সবসময় কাজের ওপরে রাখা নয়। বরং জীবনের দুই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের মধ্যে এমন একটি ভারসাম্য তৈরি করা, যাতে একটির চাপ অন্যটিকে পুরোপুরি গ্রাস না করে। তাই কাজের অগ্রাধিকার ঠিক করা, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দায়িত্ব নেওয়া, প্রয়োজন হলে ‘না’ বলা, নিয়মিত বিরতি নেওয়া, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখা—এসব ছোট অভ্যাসই ধীরে ধীরে জীবনকে আরও গোছানো করে তুলতে পারে।

মনে রাখবেন, সবসময় ব্যস্ত থাকা সফলতার প্রমাণ নয়। কাজের পাশাপাশি বিশ্রাম, সম্পর্ক ও নিজের জন্য সময় রাখাও সুস্থ জীবনেরই অংশ।

বাপ্পি/সা.এ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]