তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবাইকে একটু ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, সরকার এমন কোনো কাজ করবে না যাতে জনগণের অর্থ অপচয় বা অকার্যকর হয়। তবে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আগামী বছর থেকেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল কাজ শুরু হবে।
শনিবার (১৫ আগষ্ট) দুপুরে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কুচলিবাড়ী এলাকায় সানিয়াজান নদীর ওপর ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০৪ মিটার দীর্ঘ সেতুর নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, তিস্তা আমাদের জীবন-সংগ্রামের সঙ্গে জড়িত। এই নদীর ন্যায্য অধিকারের দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছি, যেখানে রংপুর বিভাগের প্রায় দুই কোটি মানুষ সম্পৃক্ত হয়েছিন। সে সময় আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নির্বাচনে জয়ী হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। সেই লক্ষ্যেই কাজ এগিয়ে চলছে।
শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদীর পানি সংকট মোকাবিলা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, টেকনিক্যাল টিম শুষ্ক মৌসুমে পানি ধরে রাখার বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে। তারা তিস্তার ভাটিতে (ডাউনে) আরও একটি ব্যারেজ নির্মাণের প্রস্তাবনা দিয়েছেন। এ বিষয়ে গত ১৮ জুলাই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিক এবং তিনি দ্রুততম সময়ে কাজ শেষ করতে চান। তিস্তা মহাপরিকল্পনা যেহেতু একটি বিশাল প্রকল্প, তাই তাড়াহুড়ো করে জনগণের অর্থ অপচয় করার মতো কোনো পদক্ষেপ আমরা নেব না। টেকনিক্যাল টিমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত আমাদের কিছুটা ধৈর্য ধরতে হবে। ইনশাআল্লাহ, আগামী বছরই তিস্তার দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে।
দেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী জানান, চলতি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং এই সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো এলজিইডি সংস্কার করছে যেসব তাদের আওতায় পড়ে। এর আগে মন্ত্রী হাতিবান্ধা উপজেলার ‘সোমা টি স্টল’ পরিদর্শন করেন। পরে তিনি পাটগ্রাম থানার নতুন চারতলা ভবনের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর