হঠাৎ গ্যাস সংকটে আবাসিক গ্রাহকদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। গত এক সপ্তাহ যাবৎ জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার বাসিন্দারা নিত্যদিনের রান্নার জন্য অস্থায়ী লাকড়ি চুলা ব্যবহার করছেন। অধিকাংশ বাসাবাড়িতে লাকড়ি চুলা বসানোর জায়গা না থাকায় হোটেল-রেস্টুরেন্টের ভাত-রুটি খেয়ে দিন যাপন করছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ রোগী এবং শিক্ষার্থীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। গৃহিণীরা সারাক্ষণ গ্যাসের চুলার দিকে তাকিয়ে আগুন জ্বলার অপেক্ষায় থাকছেন।
আরামনগর বাজারের অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া, শিমলা বাজারের ঔষধ ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান খোকন, গৃহিনী লাকী আকতার, রাশেদা ইসলাম রাসু, জুলেখা করিম, ফাতেমা বেগম, বাউসী বাজারের আশরাফুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন, আবুল হোসেনসহ গ্যাসের চুলা ব্যবহারকারীরা জানান, রান্নার জন্য চাকুরিজীবী, শিক্ষার্থীদের কষ্টের সীমা নেই। অধিকাংশ পরিবার গ্যাসের চুলা ছেড়ে কাঠ-খড়ির আগুনে সংসারের হাঁড়ি জ্বালাচ্ছেন। প্রতিদিনের রান্নাবান্না ব্যাহত হওয়ায় কর্মজীবী মানুষ, ছাত্রছাত্রী, শিশু ও অসুস্থ বয়স্কদের নিয়ে পরিবারগুলো বিপাকে পড়েছেন বলে তারা জানান। অনেক বাড়িতেই গ্যাসের চুলায় নিয়মিত রান্নার অভ্যাস ছেড়ে বাড়ির উঠানে অথবা ছাদে খড়ির অস্থায়ী চুলাই এখন শেষ ভরসা।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে পরিবারের ব্যয়েও। বিকল্প জ্বালানি কিনতে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা গচ্ছা যাচ্ছে। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর সংসার চালাতে নাভিশ্বাস অবস্থা। স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্যাসের এই সংকট সমাধানে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কয়েকদিনের গ্যাস সংকট শুধু রান্নাঘরের চুলার আগুনই নিভিয়ে দেয়নি, কেড়ে নিয়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
জামালপুর তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি'র ব্যবস্থাপক দুর্জয় খকসী জানান, এটি জাতীয় সমস্যা। জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। গ্রাহকদের সমস্যার বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানিয়েছি।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর