স্পাইওয়্যার হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিশ্বের ১১০টি দেশের ব্যবহারকারীকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে অ্যাপল। বৃহস্পতিবার পাঠানো এসব বার্তার মাধ্যমে উন্নত ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক ডিজিটাল হুমকি সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের সতর্ক করা হয়েছে।
অ্যাপলের এই সতর্কবার্তার লক্ষ্য হলো, যেসব ব্যবহারকারীকে অত্যাধুনিক স্পাইওয়্যার হামলার জন্য বেছে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে, তাদের দ্রুত সতর্ক করা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে সহায়তা করা। সাধারণ সাইবার অপরাধের তুলনায় এ ধরনের হামলা অনেক বেশি পরিকল্পিত ও ব্যয়বহুল। হামলাকারীরা নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও তাদের ব্যবহৃত ডিভাইসকে লক্ষ্য করে বিপুল অর্থ ও প্রযুক্তিগত সম্পদ ব্যবহার করে।
অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের হামলা পরিচালনায় কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে। আবার ব্যবহৃত স্পাইওয়্যার অনেক সময় অল্প সময়ের জন্য সক্রিয় থাকে। ফলে এর উপস্থিতি শনাক্ত করা এবং হামলা ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে খুবই কম। নাগরিক সমাজের সংগঠন, সাইবার নিরাপত্তা গবেষক ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এ ধরনের উচ্চ ব্যয়ের ব্যক্তিকেন্দ্রিক হামলার সঙ্গে অনেক সময় রাষ্ট্রীয় পক্ষের সংশ্লিষ্টতা থাকে।
সরকারের হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও নজরদারি স্পাইওয়্যার তৈরি করে থাকে। এর মধ্যে এনএসও গ্রুপের পেগাসাস অন্যতম পরিচিত। সাংবাদিক, অধিকারকর্মী, রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিকদের মতো নির্দিষ্ট ব্যক্তিরা সাধারণত এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হন। যদিও এ ধরনের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল, বিশ্বজুড়ে এর নজির রয়েছে।
অ্যাপলের সতর্কবার্তা পাওয়া ব্যবহারকারীদের নিজেদের অ্যাকাউন্ট ও ডিভাইসের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ‘লকডাউন মোড’ চালু করা অন্যতম। প্রয়োজন হলে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ক্ষেত্রে অলাভজনক সংস্থা অ্যাকসেস নাউ পরিচালিত ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি হেল্পলাইন’ থেকে জরুরি নিরাপত্তা সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
সাধারণ ব্যবহারকারীদেরও নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে অ্যাপল। ডিভাইসের সফটওয়্যার সর্বশেষ সংস্করণে আপডেট রাখা, শক্তিশালী পাসকোড ব্যবহার এবং ফেস আইডি বা টাচ আইডি চালু রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া অ্যাপল অ্যাকাউন্টে শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পাশাপাশি দ্বিস্তরীয় পরিচয় যাচাই চালু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাড়তি সুরক্ষার জন্য ‘চুরি হওয়া যন্ত্র সুরক্ষা’ সুবিধা চালু করা যেতে পারে। যেসব অঞ্চলে সুবিধাটি চালু আছে, সেখানে পাসওয়ার্ডের পরিবর্তে পাসকি ব্যবহারের পরামর্শও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
অ্যাপল তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ স্টোর থেকে সরাসরি অ্যাপ ইনস্টলের সুযোগ সীমিত রাখে। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যবহারকারীদের কেবল অ্যাপ স্টোর থেকেই অ্যাপ ডাউনলোড করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর