বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেছেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম ছয় মাসে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সরকারের নীতির ধারাবাহিকতাই বজায় রেখেছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের পূর্ণ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা না গেলেও ছয় মাসের কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করে বলা যায় যে সরকার মোটাদাগে সফলতার চেয়ে ব্যর্থতার পরিচয় বেশি দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দলীয় প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে যোগ্য কর্মকর্তাদের বদলি বা ওএসডি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে কাঠামোগত সংস্কার ও গণভোটের মাধ্যমে পাওয়া জনমত বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সরকার ক্ষমতায় এসে তা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সরকারের অবস্থানও জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত নিয়েও সমালোচনা করেন জামায়াতের এই নেতা। তার দাবি, দেশে এখনও উল্লেখযোগ্য গ্যাস ঘাটতি রয়েছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে নেওয়া কয়েকটি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে জনমনে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকার যে কমিটি গঠন করেছে, সেটিকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও এর প্রধান অবদান প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকিং খাতের সংকট এবং নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ধীরগতির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ড, ডাকাতি, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও সহিংসতার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ও সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয়ে সরকার প্রত্যাশিত সাফল্য দেখাতে পারেনি। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা, সীমান্ত হত্যা এবং পুশইনের মতো বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কৃষি খাতের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কৃষকরা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না এবং কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ভবিষ্যতে সার সংকট দেখা দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, এসব খাতে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান এখনও দৃশ্যমান নয়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
তবে সরকারের কিছু পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবেও মূল্যায়ন করেছে জামায়াত। বিশেষ করে রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নতি এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়গুলোকে স্বাগত জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত সরকারের ব্যর্থতা চিহ্নিত করলেও সরকারের ব্যর্থতা কামনা করে না। দেশের স্বার্থে ইতিবাচক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে সহযোগিতা করতে দলটি প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে জনগণের স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের সমালোচনা ও বিরোধিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর