ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে প্রধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী হেনস্তার অভিযোগে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহে এসে প্রক্টরিয়াল টিমের সঙ্গে হল সংসদের প্রতিনিধিদের বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটেছে। এসময় হল সংসদের প্রতিনিধিরা প্রক্টরিয়াল টিম ও তদন্ত কমিটির সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে প্রায় ৩ ঘণ্টা পর ফুটেজ দেখানো সাপেক্ষে অবরুদ্ধ থেকে মুক্ত হন প্রক্টরিয়াল টিম ও তদন্ত কমিটির সদস্যরা।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে হলের অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করতে প্রক্টোরিয়াল টিম সেখানে গেলে এ ঘটনা ঘটে। হল সংসদের প্রতিনিধিদের শঙ্কা, তারা সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করে দিতে পারেন। তাই তাদের ফুটেজ দেখাতে হবে। এরপরই শুরু হয় বাকবিতন্ডা।
বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজের কপি না দিয়ে প্রক্টরিয়াল টিম যেতে পারবে না। তারা তদন্তের নামে তালবাহানা ও ফুটেজ গায়েব করার পায়তারা করছে। এই ফুটেজ আমাদের লাশের উপর দিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক শান্টু বড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসময় তাকে যেতেন বাঁধা প্রদান করে, হল সংসদের প্রতিনিধিরা। শুরু হয় দু’পক্ষের তীব্র উত্তেজনা। পরে শান্টু বড়ুয়াকে হল অফিস কক্ষ থেকে বের হতে দিলেও বাকিদের অবরুদ্ধ করে রাখেন হল সংসদের প্রতিনিধিরা। প্রায় ৩ ঘণ্টা পর হল সংসদের প্রতিনিধিদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখানো হবে, এই মর্মে অবরুদ্ধ থেকে মুক্ত হন প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল রতন বলেন, ‘তাদেরকে বুঝিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে এনেছি। এখানে হল সংসদের নেতারা ও শিক্ষার্থীরা দাবি করে যে একটা ফুটেজের একটা কপি তাদের দিতে হবে। তারা বলে আমাদের এক কপি না দিয়ে এখান থেকে যাওয়া যাবে না। এসব নিয়েই কথায় বাদানুবাদ হয়।’
ডাকসুর মানববন্ধন: অভিযুক্ত ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইলিয়াস আল-মামুনের শাস্তি ও পদত্যাগ দাবি করে মানববন্ধন করেছে ডাকসু। মঙ্গলবার বিকাল তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এসময় ফজলুল হক মুসলিম হলের সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ডাকসু ভিপি বলেন, প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আগে হলের এক শিক্ষার্থী ইব্রাহিমকে প্রভোস্ট ডেকে নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার ভাষ্য, ওই শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে একটি মিথ্যা জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।
সাদিক কায়েম বলেন, আমরা যখন জাস্টিসের কথা বলছিলাম, ডাকসু ও হল সংসদের নেতারা এবং শিক্ষার্থীরা যখন প্রভোস্ট অফিসে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ চাচ্ছিলাম, তখন আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা আগের সরকারের আমলের মতোই শিক্ষার্থীদের হুমকি দিয়েছেন এবং গুন্ডা প্রভোস্টকে উদ্ধার করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন।
তিনি বলেন, আমাদের কাছে মনে হয়েছে শুধু এই হলের প্রভোস্ট না, তার সঙ্গে বিশাল এক সিন্ডিকেট আছে, যারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন ডাকসু ভিপি।
এর আগে ১৬ আগস্ট রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে ফেসবুকে পোস্ট শেয়ার করাকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ ওঠে ওই হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার তদন্তের জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর