• ঢাকা
  • ঢাকা, শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৫ সেকেন্ড পূর্বে
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:১৬ বিকাল

ঝগড়ার পরে সম্পর্ক ঠিক করতে কী করবেন?

ছবি: সংগৃহীত

সম্পর্কে ঝগড়া হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। বরং মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, মতপার্থক্য, অভিমান কিংবা তর্ক-বিতর্ক অনেক সময় একটি সম্পর্কের স্বাভাবিক অংশ। সমস্যা ঝগড়ায় নয়, বরং ঝগড়ার পর আমরা কীভাবে পরিস্থিতি সামলাই, সেটিই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।

রাগের মুহূর্তে মানুষ এমন অনেক কথা বলে ফেলে, যা সে আসলে বলতে চায় না। তখন আবেগ যুক্তির চেয়ে বেশি কাজ করে। ফলে ভুল বোঝাবুঝি বাড়ে, মন খারাপ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং দুজন মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করে। কিন্তু সামান্য সচেতনতা ও কিছু ইতিবাচক আচরণ ঝগড়ার পরেও সম্পর্ককে আবার আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে পারে।

১. আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইতে শিখুন
ক্ষমা চাওয়া দুর্বলতার লক্ষণ নয়; বরং এটি মানসিক পরিপক্বতার পরিচয়। অনেকেই মনে করেন, আগে কে ভুল করেছে তা প্রমাণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবসময় জয়ী হওয়া নয়, সম্পর্কটিকে টিকিয়ে রাখাই বড় বিষয়। ক্ষমা চাওয়ার সময় নিজের দায় স্বীকার করুন। “তুমি কষ্ট পেয়েছ বলে দুঃখিত” বলার চেয়ে “আমি তোমাকে কষ্ট দিয়েছি, এজন্য দুঃখিত” বলা বেশি কার্যকর। এতে অপর ব্যক্তি বুঝতে পারেন যে আপনি তার অনুভূতির মূল্য দিচ্ছেন।
ছবি: সংগৃহীত

২. কিছুটা সময় ও ব্যক্তিগত পরিসর দিন
ঝগড়ার পরপরই সবকিছু স্বাভাবিক করার চেষ্টা অনেক সময় উল্টো ফল দেয়। তখন উভয়ের মনেই রাগ, কষ্ট কিংবা হতাশা কাজ করতে পারে। তাই কিছু সময় বিরতি নেওয়া ভালো। এই সময়টুকু একে অপরকে দোষারোপ না করে নিজের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করুন। অনেক সময় কয়েক ঘণ্টা বা একটি দিনের দূরত্বই মানুষকে নতুনভাবে ভাবতে সাহায্য করে। আবেগ কিছুটা শান্ত হলে আলোচনাও অনেক বেশি ফলপ্রসূ হয়।

৩. সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করুন
অনেক ঝগড়ার কারণ আসলে সেই মুহূর্তের ঘটনা নয়। এর পেছনে জমে থাকা অভিমান, অবহেলার অনুভূতি, ভুল বোঝাবুঝি কিংবা দীর্ঘদিনের অপূর্ণ প্রত্যাশা কাজ করতে পারে। তাই ঝগড়া মিটিয়ে ফেলার জন্য শুধু “আচ্ছা, আর হবে না” বললেই যথেষ্ট নয়। বরং বোঝার চেষ্টা করুন—কোন বিষয়টি এত বড় তর্কের জন্ম দিল? কোথায় যোগাযোগের ঘাটতি ছিল? কে কাকে ঠিকমতো শুনতে পারেনি?

সমস্যার শিকড় খুঁজে বের করতে পারলে ভবিষ্যতে একই কারণে আবার ঝগড়া হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়।

৪. শুনুন, শুধু উত্তর দেওয়ার জন্য নয়
সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলেন, অধিকাংশ মানুষ ঝগড়ার সময় শুনতে নয়, জবাব দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করে। ফলে প্রকৃত সমস্যাটি বোঝা হয় না। অপর ব্যক্তি যখন নিজের কষ্ট বা অভিযোগের কথা বলছেন, তখন তাকে থামিয়ে না দিয়ে মনোযোগ দিয়ে শুনুন। তার অনুভূতি আপনার কাছে যৌক্তিক মনে না হলেও সেটি তার কাছে বাস্তব। তাই বোঝার চেষ্টা করুন তিনি আসলে কী অনুভব করছেন।

অনেক সময় একজন মানুষ সমাধানের চেয়ে বেশি চায় তাকে গুরুত্ব দিয়ে শোনা হোক।
ছবি: সংগৃহীত

৫. কথা নয়, কাজের মাধ্যমে পরিবর্তন দেখান
মুখে বলা সহজ, কিন্তু পরিবর্তন প্রমাণ হয় আচরণে। আপনি যদি প্রতিবার ঝগড়ার পর একই ভুলের জন্য ক্ষমা চান, অথচ সেই আচরণ বদলাতে না পারেন, তাহলে বিশ্বাস ধীরে ধীরে কমে যাবে। তাই প্রতিশ্রুতির চেয়ে কাজকে গুরুত্ব দিন। যদি আপনার সমস্যা হয় রাগ নিয়ন্ত্রণ করা, তাহলে রাগের মুহূর্তে বিরতি নেওয়ার অভ্যাস করুন। যদি সময় না দেওয়ার অভিযোগ থাকে, তাহলে সচেতনভাবে প্রিয়জনের জন্য সময় বের করুন।

বিশ্বাস পুনর্গঠনের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ধারাবাহিক ইতিবাচক আচরণ।

৬. জেতার নয়, বোঝার চেষ্টা করুন
ঝগড়ার সময় অনেকেই যুক্তিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন। কে ঠিক, কে ভুল—এটি প্রমাণ করতে গিয়ে সম্পর্কের উষ্ণতা নষ্ট হয়ে যায়। মনে রাখবেন, সম্পর্ক কোনো আদালত নয় যেখানে একজনকে জিততেই হবে। আপনি যদি প্রতিটি কথার পাল্টা যুক্তি দিতে থাকেন, তাহলে আলোচনা দ্রুত প্রতিযোগিতায় পরিণত হবে।

কখনো কখনো শেষ কথা বলার চেয়ে সম্পর্কটিকে গুরুত্ব দেওয়া বেশি বুদ্ধিমানের কাজ।

৭. পুরোনো ভুল টেনে আনবেন না
বর্তমান সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কহীন অতীতের ঘটনা বারবার তুলে আনা অনেক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর। এতে আলোচনার মূল বিষয় হারিয়ে যায় এবং নতুন ক্ষোভ তৈরি হয়। যে সমস্যাটি নিয়ে কথা হচ্ছে, সেটিতেই সীমাবদ্ধ থাকুন। পুরোনো ভুল নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন হলে আলাদা সময় ও শান্ত পরিবেশে তা করুন।

৮. কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলবেন না
ঝগড়ার পর অনেকেই শুধু নেতিবাচক বিষয়গুলোর ওপর মনোযোগ দেন। অথচ সম্পর্কের ভালো দিকগুলো স্মরণ করলে মনোভাব বদলাতে শুরু করে। প্রিয়জনের কোনো ভালো কাজ, ত্যাগ বা সহানুভূতির কথা উল্লেখ করুন। একটি আন্তরিক “ধন্যবাদ” বা “তুমি আমার জন্য অনেক কিছু করো” সম্পর্ককে আবার ইতিবাচক পথে ফিরিয়ে আনতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত

৯. প্রয়োজন হলে সাহায্য নিন
সব সমস্যা দুজন মিলে সমাধান করা সম্ভব হয় না। যদি একই বিষয় নিয়ে বারবার তর্ক হয়, যোগাযোগ ভেঙে পড়ে বা সম্পর্ক ক্রমাগত খারাপ হতে থাকে, তাহলে কোনো কাউন্সেলর বা সম্পর্ক বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। সহায়তা চাওয়া ব্যর্থতার লক্ষণ নয়; বরং সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়ার একটি দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত।

ঝগড়া একটি সম্পর্কের সমাপ্তি নয়। বরং অনেক সময় এটি একে অপরকে আরও ভালোভাবে বোঝার সুযোগ তৈরি করে। গুরুত্বপূর্ণ হলো রাগের পর কীভাবে আচরণ করা হচ্ছে। ক্ষমা চাইতে জানা, মন দিয়ে শোনা, নিজের ভুল স্বীকার করা, সময় দেওয়া এবং কাজের মাধ্যমে পরিবর্তন দেখানো—এসব ছোট ছোট পদক্ষেপই সম্পর্ককে আবার উষ্ণ ও সুন্দর করে তুলতে পারে।

মনে রাখবেন, সুখী সম্পর্কের মানুষদের মধ্যে ঝগড়া হয় না—এমন নয়। বরং তারা ঝগড়ার পরও একে অপরের কাছে ফিরে আসার পথ খুঁজে নেয়। আর সেই পথের নামই হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া এবং ভালোবাসা।

বাপ্পি/সা.এ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]