পটুয়াখালীর বাউফলে রাকিব হোসেন (২৬) নামের এক ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগে সূর্যমনি ইউনিয়ন যুবজামায়াতের নেতা আতিকুর রহমানকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের ইন্দ্রকুল গ্রামের নয়া বাড়ি মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
গত ১২ আগস্ট রাতে ইন্দ্রকুল গ্রামে এক গৃহবধূর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে আটক হন আতিকুর রহমান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুবজামায়াতের ইউনিয়ন সেক্রেটারি হিসেবেই সকলের কাছে পরিচিত। তবে রাতে পরস্ত্রীর ঘরে আটকের পর জামায়াতের নেতারা দাবি করেন আতিকুর রহমান জামায়াত বা অঙ্গসংগঠনের কোনো পদে নেই, ছিলেনও না। তবে তিনি জামায়াতের বিভিন্ন সভাসমাবেশে অংশগ্রহণ করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেদিন পরনারীর ঘরে আটকের সময় আতিকের বিরোধিতা করেন ভুক্তভোগী রাকিব। ওই ঘটনার জেরে আতিকুর রহমান ভুক্তভোগী রাকিবের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। গতকাল আতিকুর বাড়ির সামনে জুমার নামাজ আদায় করে ফেরার পথে তাকে টেনেহিঁচড়ে নিজের বাড়ির ভেতরে নিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়।
পরে স্থানীয়রা ভুক্তভোগী রাকিবকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে রাকিবকে মারধরের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আতিকুরের বাড়ি ঘেরাও করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আতিকুরকে আটক করে হেফাজতে নেন। আতিকুর রহমান পুলিশ হেফাজতে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে নিজেকে ওয়ার্ড যুব জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবে পরিচয় দিতে দেখা যায়। পরে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে তিনি নিজেকে জামায়াতের সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেন।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নেতারা বলেন, আতিকুর রহমানের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী বা দলটির কোনো অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই এবং তিনি জামায়াত বা এর কোনো অঙ্গসংগঠনের কোনো পদেও নেই। কেউ ব্যক্তিগতভাবে জামায়াতের সমর্থক হতে পারেন, তবে তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় সংগঠন নেবে না বলেও জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, জনগণ কী কারণে তাকে ধরেছে, বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয়।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর