রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের নেত্রী প্রীতি চৌধুরীকে নিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস প্রিয়ার একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রীতির রাজনৈতিক অবস্থান ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রিয়ার মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা জবাব দেন প্রীতি। পরে তার সমর্থনে অবস্থান নেন রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাশিকুজ্জামান প্রীতমসহ সংগঠনটির নেতাকর্মী ও কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী।
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজশাহী মহানগর শাখার পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত জান্নাতুল ফেরদৌস প্রিয়া ফেসবুকে প্রীতি চৌধুরীর রাজনৈতিক অবস্থান ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সঙ্গে প্রীতির অতীত ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তুলে তাকে ‘সুযোগসন্ধানী’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর জবাবে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন প্রীতি চৌধুরী। সেখানে তিনি প্রিয়ার বক্তব্যের প্রতিবাদ করে তার রাজনৈতিক অবস্থান ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও পাল্টা প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত বিষয়কে রাজনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে না মেলানোর আহ্বান জানান তিনি।
প্রীতির পোস্টকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। তার সমর্থকেরা দাবি করেন, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের সময় রাজশাহী কলেজে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন প্রীতি চৌধুরী। এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবেও উল্লেখ করা হচ্ছে।
এদিকে প্রীতির সমর্থনে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাশিকুজ্জামান প্রীতম। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজশাহী কলেজে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে প্রীতি চৌধুরী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ভয়ভীতি বা ব্যক্তিগত আক্রমণের মাধ্যমে কোনো প্রতিবাদী কণ্ঠকে থামানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রীতি চৌধুরীসহ সব ছাত্রীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষায় তারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন বলেও জানান রাশিকুজ্জামান প্রীতম।

এরপর ছাত্রদলের আরও কয়েকজন নেতাকর্মী ও রাজশাহী কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রীতির সমর্থনে পোস্ট দেন। তারা সাইবার বুলিং ও ব্যক্তিগত আক্রমণের নিন্দা জানিয়ে শিক্ষার্থীদের স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
পাল্টাপাল্টি এসব বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক মতপার্থক্য প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আক্রমণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর