• ঢাকা
  • ঢাকা, রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১৯ মিনিট পূর্বে
আব্দুল ওয়াদুদ
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ০১:২৫ দুপুর

হাঁস পালন করে মাসে আয় ৩ লাখ টাকা, ১২ বছর আগের জেদ বদলে দিয়েছে জীবন

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

১২ বছর আগে হাঁস কেনার জন্য গ্রামের এক প্রতিবেশীর কাছে গিয়েছিলেন ফজলুর রহমান। কিন্তু প্রতিবেশী হাঁসটি বিক্রি করতে রাজি হননি। সেই না-পাওয়ার রাগ আর ক্ষোভ থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, নিজেই হাঁস পালন করবেন। সেই সিদ্ধান্তই আজ বদলে দিয়েছে তার জীবন। বর্তমানে মাত্র ২৪ শতাংশ জমিতে তিনি পালন করছেন প্রায় ৩ হাজার হাঁস, যেখান থেকে প্রতিদিন মিলছে দেড় হাজার ডিম, আর মাসে আয় হচ্ছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের দারুগ্রাম এলাকার মফিজ উদ্দিনের ছেলে ফজলুর রহমানের কথা বলছিলাম।

সরেজমিনে রোববার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, দারুগ্রামে প্রবেশ করতেই প্রথমে চোখে পড়ে ফজলুর রহমানের হাঁসের খামার। মাত্র ২৪ শতাংশ জমির একাংশে পুকুর, আরেক অংশে তৈরি করা হয়েছে হাঁস পালনের ঘর। এই সীমিত জায়গাতেই তিনি পালন করছেন প্রায় ৩ হাজার হাঁস।

ফজলুর রহমান জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি নিজেই হাঁসগুলোকে ধান, শামুক ও ফিড খাওয়ান। ধান কাটা-মাড়াই শেষ হয়ে জমি ফাঁকা থাকলে তখন হাঁসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয় জমিতে। জমিতে ছেড়ে দিয়ে খাওয়ানোর সময়টাতে বাড়তি কোনো খরচ হয় না। তবে সেই সময় দেখভালের জন্য একজন সহযোগী রাখতে হয়। আর জমিতে ছেড়ে না দিলে একাই সব নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি।

ফজলুর রহমানের এই খামার থেকে প্রতিদিন উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় দেড় হাজার ডিম, যা বিক্রি হচ্ছে ১৯ হাজার ৫০০ টাকায়। এই হিসাবে মাসে তার আয় দাঁড়ায় প্রায় ৬ লাখ টাকা। এছাড়া প্রতি ছয় মাসে একেকটি প্রজেক্ট শেষে খরচ বাদ দিয়ে তিনি আয় করেন ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা।

এক সময় ফজলুর রহমানের সংসারে ছিল অভাব-অনটন। হাঁস পালন শুরু করার পর সেই চিত্র বদলে গেছে সম্পূর্ণভাবে। আজ তিনি সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী, আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে হাঁস পালন করলেও এই কাজে কখনো প্রাণিসম্পদ দপ্তরের দ্বারস্থ হতে হয়নি ফজলুর রহমানকে। নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা দিয়েই তিনি হাঁসের চিকিৎসা করে আসছেন। তার এই দক্ষতার কথা ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের এলাকাতেও। এখন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তার কাছে আসেন হাঁসের চিকিৎসা নিতে।

একদিনর একটি প্রত্যাখ্যান থেকে জন্ম নেওয়া জেদ যে আজ একটি সফল ও লাভজনক উদ্যোগে রূপ নিতে পারে, ফজলুর রহমানের গল্প তারই এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত। তার দেখাদেখি এখন হাঁস পালনে আগ্রহ বাড়ছে এলাকার বেকার যুবকদের।

এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ মোঃ নিয়ায কাযমীর রহমান জানান, এই উপজেলায় প্রায় ৫০টি হাঁসের খামারি রয়েছে। তবে বিভিন্ন সময়ে এই সংখ্যা কমে এবং বাড়ে। তাদের নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে এবং পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে, যেন রোগ-বালাই হয়ে কোনো খামারি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]