কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙা বাজারে সার না পাওয়ার আশঙ্কায় বিসিআইসি অনুমোদিথ সার ডিলার মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের গুদাম ঘরের দরজা ভেঙে ১০২ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে এই ঘটনা ঘটার পর ওই দিন রাতেই সহকারী কমিশনার( ভূমি) কে সভাপতি ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে উপজেলা প্রশাসন।
কমিটিকে সোমবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১৫ বস্তা সার ফেরত দিয়েছেন কৃষক। সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে ও স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রোপা আমনের ভরা মৌসুমে তারা কয়েক দফা ডিলারের কাছে গিয়েও সার পাননি। অথচ খোলা বাজারে বেশি দামে সার পাওয়া যাচ্ছে। প্রয়োজন মতো সার না পাওয়ায় এবং সার বিতরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে গুদাম থেকে বস্তা নিয়ে যান।
কৃষকদের অভিযোগ, রোপা আমন চাষের শুরুতে ডিলার ২ কিস্তিতে বরাদ্দকৃত সার উত্তোলন করে তা বিতরণ করেননি। আগস্ট মাসের বরাদ্দকৃত সার মাত্র ৩৪০ বস্তা উত্তোলন করে গুদামজাত করেন। সার দেওয়ার কথা শুনে রবিবার প্রায় ৫ শতাধিক কৃষক ডিলার পয়েন্টে আসেন। পরে কৃষক ৩৪০ বস্তা সারের কথা জানতে পারলে না পাওয়ার শঙ্কা থেকে ডিলারের গুদাম ঘরের দরজা ভেঙে ২০২ বস্তা সার বের করে নিয়ে যান।
ডিলার মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের মালিক তাইফুর রহমান মুকুল জানান, কৃষক কর্তৃক সারের বস্তা নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল জব্বার জানান, শিলখুড়ি ইউনিয়নে চলতি রোপা আমন মৌসুমে ১ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। আগস্ট মাসে ইউনিয়নে ইউরিয়া সারের বরাদ্দ ছিলো ৬৮ মে.টন। উপজেলায় কোথাও কোন সারের সংকট নেই। বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ১১৫ বস্তা ফেরত ও ১৪ বস্তা সারের নগদ মূল্য পরিশোধ করেছেন কৃষক।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেব নাথ জানান, উপজেলায় সার বিতরণের প্রতিটি ডিলার পয়েন্টে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। এখন থেকে ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের উপস্থিতিতে সার বিতরণ করা হবে। কৃষক কর্তৃক সারের বস্তা নিয়ে যাওয়ার ঘটনার ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর