কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে মো. মোক্তার উদ্দিন (৬২) নামে সাবেক এক ইউপি সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার গোপদিঘী ইউনিয়নের নতুন চাঁনপুর গ্রাম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত মো. মোক্তার উদ্দিন নতুন চাঁনপুর গ্রামের মৃত আবদুল কাদিরের ছেলে। তিনি গোপদিঘী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন।
নিহতের ভাতিজা মো. আইকন মিয়া বলেন, চাচাতো ভাই এনামুল হক বাড়িতে না থাকায় তার বসতঘরে কয়েকদিন ধরে রাত্রিযাপন করছিলেন মোক্তার উদ্দিন। রাত্রিযাপন শেষে প্রতিদিন ফজরের নামাজ পড়ে তিনি সরাসরি নিজ ঘরে ফিরতেন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে রাত্রিযাপনের জন্য যাওয়ার পর বুধবার (২৬ আগস্ট) ফজরের নামাজের সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে স্ত্রী মাফুজা আক্তার কলি এনামুল হকের বসতঘরে গলায় দড়ি পেঁচানো অবস্থায় স্বামী মোক্তার উদ্দিনকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তার আর্তচিৎকার ও কান্নাকাটি শুনে স্বজন ও এলাকাবাসী এগিয়ে গিয়ে হতভম্ব হয়ে যান। পরে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে তার নিথর দেহ নামানো হয়।
আইকন মিয়ার দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা। তিনি বলেন, মরদেহ নামানোর পর গোপনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন ও রক্তাক্ত অবস্থা দেখা গেছে। হয়তো তাকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে।
আইকন মিয়া জানান, কিছুদিন আগে মোক্তার উদ্দিন একটি এবতেদায়ী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার জন্য ঘর করেছিলেন। সেই ঘরটিতে আগুন দেওয়া ও ভাঙচুর করা হয়েছিলো।
আইকন মিয়ার দাবি, তাদের ধারণা পূর্ব শত্রুতার জেরেই তার চাচা মোক্তার উদ্দিনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার মাহমুদ বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা কোনোটিই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর