ব্যাগের ভেতর নবজাতক উদ্ধার, শরীরজুড়ে ছিল অসংখ্য পিঁপড়া ‘বোনের মতো স্নেহ-মমতায় মানুষ করতে চান’ উদ্ধারকারী মোঃ আসাদুজ্জামান পৃথিবীর আলো দেখার পরপরই নিষ্ঠুর বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে এক নবজাতক।
প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর ফেলে রাখা শিশুটির শরীরজুড়ে ছিল অসংখ্য পিঁপড়া। তখনো কাটা হয়নি নাড়ি। কান্নার শব্দ শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। গতকাল বিকেল দিকে বরগুনার বামনা উপজেলার সোনাখালী গ্রামের ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের সামনে ফজলুর দোকানের পেছনে নারিকেলগাছের পাশ থেকে প্লাস্টিকের একটি ব্যাগের ভেতর জীবিত নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফজলুর দোকানের পেছন থেকে ব্যাগের ভেতর শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান দোকানদার বাবুল। পরে তিনি বিষয়টি স্থানীয় যুবক তারিফ হাওলাদারকে জানান। তারিফ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাগের ভেতর শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান। পরে বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসে কর্মরত কামরুজ্জামানকে জানানো হয়। কামরুজ্জামান স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাগের ভেতর জীবিত নবজাতক দেখতে পান। পরে তারিফ হাওলাদার ব্যাগটি খুলে শিশুটিকে বের করে কোলে তুলে নেন।
এ সময় দেখা যায়, শিশুটির নাড়ি তখনো কাটা হয়নি এবং নাভির সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। উদ্ধারের সময় শিশুটির শরীরজুড়ে প্রচুর পিঁপড়া জড়ানো ছিল। পরে শিশুটিকে দ্রুত বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটির নাড়ি কেটে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। চিকিৎসক জানান, শিশুটি মোটামুটি সুস্থ রয়েছে। চিকিৎসা শেষে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়নি।
বর্তমানে উদ্ধারকারী তারিফ হাওলাদারের হেফাজতেই রয়েছে শিশুটি। তারিফ হাওলাদার বলেন, শিশুটিকে এ অবস্থায় দেখে তিনি খুবই কষ্ট পেয়েছেন। তিনি শিশুটিকে নিজের বোনের মতো স্নেহ-মমতায় মানুষ করতে চান। শিশুটিকে কে বা কারা ব্যাগের মধ্যে রেখে গেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর