প্রেক্ষাগৃহে প্রত্যাশিত ব্যবসা করতে পারেনি, সমালোচকদের কাছ থেকেও পেয়েছে তীব্র কটাক্ষ। মুক্তির সময় তাই খুব একটা আলোচনায় আসতে পারেনি হোমি আদাজানিয়া পরিচালিত ‘ককটেল ২’। তবে ওটিটিতে মুক্তির পর যেন পুরো চিত্রটাই পাল্টে গেছে শহিদ কাপুর, রাশমিকা মান্দানা ও কৃতি শ্যানন অভিনীত সিনেমাটির।
নেটফ্লিক্সে মুক্তির পর দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ‘ককটেল ২’। বিশ্বব্যাপী নেটফ্লিক্সের অ-ইংরেজি সিনেমার তালিকায় ছবিটি চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। আর বাংলাদেশে দর্শকদের আগ্রহে সিনেমাটি উঠে এসেছে শীর্ষে।
২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ককটেল’-এর প্রায় ১৪ বছর পর নির্মিত হয়েছে এর নতুন কিস্তি। প্রথম সিনেমায় সাইফ আলী খান, দীপিকা পাড়ুকোন ও ডায়না পেন্টি অভিনয় করেছিলেন। সেই সিনেমা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেলেও নতুন কিস্তিতে বদলেছে অভিনয়শিল্পী ও গল্পের প্রেক্ষাপট।
সিসিলির মনোরম লোকেশনে আধুনিক সম্পর্কের টানাপোড়েন ও প্রাপ্তবয়স্ক বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে ‘ককটেল ২’-এর গল্প। এক দশকের লিভ-ইন সম্পর্কের পর প্রেমিকের বিশ্বস্ততা যাচাই করতে দিয়ার নেওয়া অদ্ভুত এক সিদ্ধান্ত এবং সেই পরিকল্পনায় তার বান্ধবী অ্যালির জড়িয়ে পড়াকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে কাহিনি।
সিনেমাটির লোকেশন, তারকাদের উপস্থিতি ও দৃশ্যায়ন প্রশংসা পেলেও গল্পের গাঁথুনি নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। বিভিন্ন পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, আধুনিক প্রেমের গল্প তুলে ধরার চেষ্টা করলেও সিনেমাটি শেষ পর্যন্ত পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিকেই গুরুত্ব দিয়েছে। সম্পর্কের আবেগ ও সংবেদনশীলতার চেয়ে চটুল রসিকতাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়াও সিনেমাটির গল্প ও উপস্থাপনাকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, ছবিতে চাকচিক্য, তারকা ও বিদেশি লোকেশন থাকলেও প্রেমের গল্পে প্রয়োজনীয় আবেগ ও প্রাণের ঘাটতি রয়েছে।
তবে সমালোচকদের নেতিবাচক মূল্যায়ন সাধারণ দর্শকদের খুব একটা প্রভাবিত করতে পারেনি। বিশেষ করে বাংলাদেশে সিনেমাটির জনপ্রিয়তার পেছনে রাশমিকা মান্দানার জনপ্রিয়তাকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ‘ককটেল ২’-এ নিজের পরিচিত ‘পাশের বাড়ির মেয়ে’ ধরনের ইমেজ থেকে বেরিয়ে ভিন্ন রূপে হাজির হয়েছেন তিনি। অভিনেত্রীর নতুন এই অবতার দেখার আগ্রহও দর্শকদের সিনেমাটির দিকে টেনে আনতে পারে।
পাশাপাশি ২০১২ সালের ‘ককটেল’-এর প্রতি দর্শকদের নস্টালজিয়াও নতুন কিস্তির প্রতি আগ্রহ বাড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আধুনিক সম্পর্কের জটিলতা, প্রেম, সন্দেহ ও টানাপোড়েনের গল্পও তরুণ দর্শকদের কৌতূহলের কারণ হয়ে উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেমাটি নিয়ে ছড়িয়ে পড়া নেতিবাচক মন্তব্যও উল্টো দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে। অনেকে সমালোচনা দেখেই সিনেমাটি দেখতে বসেছেন। অবশ্য সবাই এতে সন্তুষ্ট নন; কেউ কেউ সিনেমাটি দেখে বিরক্তি ও হতাশার কথাও জানিয়েছেন।
প্রেক্ষাগৃহে প্রত্যাশিত সাড়া না পেলেও ওটিটিতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। এর আগে অক্ষয় কুমার অভিনীত ও প্রিয়দর্শন পরিচালিত ‘ভূত বাংলা’ নিয়েও বাংলাদেশে একই ধরনের চিত্র দেখা গিয়েছিল। নানা সমালোচনা সত্ত্বেও সিনেমাটি নেটফ্লিক্সের বাংলাদেশি টপচার্টে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেছিল।
সব মিলিয়ে ‘ককটেল ২’ আবারও দেখিয়ে দিল, বক্স অফিসের হিসাব কিংবা সমালোচকদের মূল্যায়ন সব সময় দর্শকের পছন্দের প্রতিফলন নয়। প্রেক্ষাগৃহে প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও নেটফ্লিক্সে, বিশেষ করে বাংলাদেশে, সিনেমাটি এখন দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে। পুরোনো ‘ককটেল’-এর নস্টালজিয়া, আধুনিক সম্পর্কের গল্প এবং রাশমিকা মান্দানার জনপ্রিয়তা—সব মিলিয়েই এই সাফল্যের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর