বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের চোমরপাথালিয়া মেলায় আয়োজক কমিটির লাঠিয়াল বাহিনীর হামলা, পক্ষপাতিত্ব এবং অবাধ চাঁদাবাজির কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দর্শনার্থীরা। আয়োজকদের এহেন তাণ্ডব ও একের পর এক মারামারির ঘটনায় এলাকাটিতে যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, মেলার সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষা করার দায়িত্ব কমিটির ওপর থাকলেও তারা উল্টো তাণ্ডব ও চাঁদাবাজির নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। গত চার দিনের ব্যবধানে মেলায় অন্তত তিনবার মারামারির ঘটনা ঘটেছে।
সর্বশেষ গতকাল সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে একটি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকার চালক ও ঘুরতে আসা সাধারণ দর্শনার্থীদের ওপর নির্মম হামলা চালায় মেলা কমিটির লাঠিয়াল বাহিনী।
এতে কয়েকজন আহত হন। এই হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর আগে গত ২২ আগস্ট (শনিবার) বিকেলে প্রতিযোগী নৌকার বিচারে মেলা কমিটির প্রকাশ্য পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মেলার অন্যতম আকর্ষণ 'বিজয় নিশান-১' ও 'বিজয় নিশান-২ (হুরুম)' নামের দুটি বাইচ নৌকা মেলা বয়কট করে চলে যায়। ধারাবাহিক অপ্রীতিকর ঘটনা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে মেলাটি দ্রুত বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেলা কমিটির সভাপতি সেলিম বলেন, মেলাতে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তা স্থানীয়ভাবে বসে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন জানান, মারামারির খবর পেয়েছি, তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। মেলাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মেলা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে মেলার পুতুল নাচ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর