যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি সাময়িক নৌপথ চালুর বিষয়ে আলোচনা করেছে ইরান ও ওমান। দুই দেশ প্রণালিটির নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে যৌথভাবে একটি অস্থায়ী নেভিগেশন করিডোর তৈরির বিষয়ে একমত হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক সপ্তাহ ধরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা চলছিল। মঙ্গলবার দুই দেশ জানিয়েছে, তারা প্রণালির মধ্য দিয়ে একটি ‘যৌথ অস্থায়ী নৌ চলাচল করিডোর’ তৈরির বিষয়ে আলোচনা করেছে এবং প্রণালিটি মাইনমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। তবে ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পথে অধিকাংশ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার ওমানের আশ শিসাহ এলাকার কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, প্রণালির প্রবেশমুখ থেকে প্রায় ৯ নটিক্যাল মাইল বা ১৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে হামলার পর ট্যাংকারটি অচল হয়ে পড়ে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালির সব মাইন সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি ইরানকে নতুন করে কোনো মাইন স্থাপন না করার বিষয়েও সতর্ক করেন।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের তীব্রতা অনেকটাই কমেছে, দুই দেশের মধ্যে শান্তি চুক্তি নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সঙ্গে ব্যবসা অব্যাহত রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে। তবে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে এসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে না।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়ে বাজারে উদ্বেগ কম থাকায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। ইরান মার্কিন অর্থনৈতিক চাপের উদ্যোগকে ‘চরম আইনবহির্ভূত’ কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। একই সঙ্গে দেশটি বলেছে, অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের চাপের প্রচারণায় যোগ দেবে না বলে তারা আশাবাদী।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক মিশনগুলোতে আবারও মার্কিন কর্মী পাঠানো শুরু করেছে ওয়াশিংটন। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময় যেসব মিশন থেকে কর্মী সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বা জনবল কমানো হয়েছিল, সেগুলোর কয়েকটিতে ধীরে ধীরে কর্মী ফেরানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ পদক্ষেপ থেকে বোঝা যায়, নিকট ভবিষ্যতে সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই ইরান ও লেবাননের। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতার বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তবে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা এখনো স্পষ্ট নয়।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর