খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় আকস্মিক মুষলধারে বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই চৌধুরী। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহায়-সম্বল হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে চেয়ারম্যান উপজেলার জামতলী, সুধীর মেম্বারপাড়া, মায়াফাপাড়া, জামতলী বাঙালি পাড়ার নিচু এলাকা এবং জামতলী বাজারসংলগ্ন প্লাবিত ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য এমএন আফছার, মো. মোশারফ হোসেনসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
উল্লেখ্য, গত ২১ আগস্ট মধ্যরাতে মাত্র তিন ঘণ্টার প্রবল বর্ষণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার নিচু এলাকাগুলো দ্রুত প্লাবিত হয়। পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে শতাধিক মাটির তৈরি কাঁচা ঘরবাড়ি ও কয়েকটি বাণিজ্যিক গুদামঘর বিধ্বস্ত ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাতের আঁধারে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষ আসবাবপত্র, রান্নার সামগ্রী ও পরনের প্রয়োজনীয় পোশাকও সরানোর সুযোগ পাননি। বর্তমানে দুর্গত অনেক পরিবার আত্মীয়স্বজনের বাড়ি ও স্থানীয় অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়ে মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
পরিদর্শনকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সার্বিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং সরাসরি তাদের সাথে কথা বলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান।
জামতলী এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা মো. করিম মিয়া বলেন, 'মধ্যরাতে সবাই যখন ঘুমে, তখন চোখের পলকে ঢলের পানি ঘরে প্রবেশ করে। পানি এত দ্রুত বাড়ছিল যে ঘরবাড়ি ভেঙে সব তলিয়ে যায়, পরনের কাপড়টুকু ছাড়া কিছুই বাঁচাতে পারিনি। এখন পরিবার নিয়ে অন্যের আশ্রয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছি। জেলা পরিষদ ও সরকার থেকে দ্রুত ঘর তৈরির টিন ও আর্থিক সহায়তা না পেলে আমাদের পক্ষে পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানো একেবারেই অসম্ভব।'
দুর্গতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই চৌধুরী বলেন, 'পাহাড়ি ঢলে দীঘিনালার মানুষের যে অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, জেলা পরিষদ তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জরুরি খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুনর্বাসনের জন্য প্রতিটি পরিবারকে নগদ ৯ হাজার টাকা এবং ৩ বান করে ঢেউটিন প্রদান করা হবে। কোনো পরিবার যেন খোলা আকাশের নিচে না থাকে, আমরা সেই ব্যবস্থা করছি।'
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর