রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে একটি নির্মাণাধীন গ্যাস কেমিক্যাল প্রকল্পে পাইপলাইন পরীক্ষার সময় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৩৫ জন বাংলাদেশী শ্রমিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া দুই বাংলাদেশীর মধ্যে ২ জনই রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার বাসিন্দা।
এদের মধ্যে একজনকে পরবর্তীতে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অপর একজন এখনও সন্ধানহীন রয়েছেন।
এদিকে নিখোঁজ আব্দুল কুদ্দুসের বাড়ীতে চলছে আহাজারী। আব্দুল কুদ্দুস পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নের ধোঁপাকেল্লা গ্রামের মৃত মোমিন মোল্লার ছেলে।
দেড় বছর আগে জিবিকার তাগিদে রাশিয়া পাড়িদিয়েছিলেন কুদ্দুস সেখানে সিনোপেক প্ল্যান্ট নামক কোম্পানিতে কাজ করছিলেন। পিতৃহীন কুদ্দুসের ছোট বেলা থেকেই কষ্টে কেটেছে তার জীবন একটু ভাল থাকবার আশায় পারি দিয়েছিলেন প্রবাসে।
কুদ্দুসের পরিবারের দাবী যে কোন উপায়ে বাংলাদেশ সরকার যেন তদারকি করে তাদের সন্তানের সন্ধান করেদেন। কুদ্দুসের বৃদ্ধ মায়ের আহাজারীতে আকাশ বাসাত ভাড়ী হয়ে উঠেছে।
রাজবাড়ীর পাংশা পৌরসভাধীন চরমোদিপুর গ্রামের অপর নিখোঁজ থাকা মনিরুল ইসলামের পরিবার জানান মনিরুল ফকির নিখোজ ছিলো। এখন তার সন্ধান পওয়া গেছে ঘটনার সাথে সাথে হাসপাতাল নেওয়া হয়। অবস্থা গুরুতর ছিলো। এখন উন্নত চিকিৎসার জন্য মস্কো শহরে পাঠানো হচ্ছে ।
এ ব্যাপারে পাংশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: রিফাতুল হক বলেন, বিষয়টা আমার জানানেই খোঁজ খবর নিয়ে বলতে পারব।
গত ২৫ আগস্ট এজিসিসি নামক প্রকল্পের সিনোপেক প্ল্যান্টের একটি সংযোগ স্থানে প্রাথমিক গ্যাস সরবরাহ পরীক্ষার সময় পাইপ ফেটে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই তা বিকট বিস্ফোরণে রূপ নিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট ওই বৃহৎ শিল্প প্রকল্পে বিগত বছরগুলোতে প্রায় আড়াই হাজার বাংলাদেশী শ্রমিক নিয়োগ পেয়েছিলেন। বর্তমানে প্রকল্পটির মূল নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও প্ল্যান্টগুলোতে এখনও বহু বাংলাদেশী পেশাজীবী ও শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর