পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও দেশটির সরকারের আপত্তি উপেক্ষা করেই লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনে সম্প্রচারিত হয়েছে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দুই ছেলে সুলেইমান খান ও কাশিম খানের বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার। সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক ও ধারাভাষ্যকার মাইকেল আথারটনকে দেওয়া ১৮ মিনিটের ওই সাক্ষাৎকারে বাবার শারীরিক অবস্থা, কারাবন্দিত্ব এবং পাকিস্তান সরকারের ভূমিকা নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ ও ক্ষোভের কথা তুলে ধরেছেন তারা।
সাক্ষাৎকারে ইমরানের দুই ছেলে অভিযোগ করেন, কারাগারে তাদের বাবাকে পরিকল্পিতভাবে ‘হত্যা’ করার ষড়যন্ত্র চলছে। তাদের দাবি, ইমরান খানকে দীর্ঘদিন কারাবন্দি রেখে তার কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেওয়াই সরকারের মূল উদ্দেশ্য।
ইমরানের সুচিকিৎসা ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এরই মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে দুটি চিঠি দিয়েছেন মাইকেল আথারটনসহ বিশ্বের কয়েকজন খ্যাতনামা সাবেক অধিনায়ক। সেই উদ্বেগের মধ্যেই সাক্ষাৎকারে ইমরানের ছোট ছেলে কাশিম খান বলেন, সরকারের কর্মকাণ্ডে কোনো নীতি-নৈতিকতার প্রতিফলন তারা দেখছেন না।
কাশিম বলেন, ‘খুব স্পষ্টভাবেই বোঝা যাচ্ছে তারা কী চাইছে—বাবাকে জেলের ভেতর তিলে তিলে মেরে ফেলতে চায়। যতটুকু সম্ভব তাকে আটকে রেখে তার মুখ বন্ধ করে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।’
ইমরানের বর্তমান মানসিক ও শারীরিক অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন কাশিম। তিনি বলেন, বাবার সঠিক চিকিৎসা এখন তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চোখের সমস্যার কারণে ইমরানের চোখে প্যাচ লাগানো হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
কাশিম বলেন, ‘তাকে দৃশ্যতই মানসিক চাপে মনে হচ্ছিল। বিষয়টি আমাদের জন্য মেনে নেওয়া খুব কঠিন। কারণ আমরা যতবারই তাকে দেখেছি, এমনকি বন্দুকের মুখোমুখি হওয়ার সময়ও, তিনি সবসময় অত্যন্ত শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন।’
বাবার স্বভাব বোঝাতে একটি পুরোনো ঘটনাও তুলে ধরেন কাশিম। তিনি জানান, একবার তারা যে গাড়িতে ছিলেন, সেটি ছিনতাই হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতেও ইমরানই ছিলেন সবচেয়ে শান্ত ব্যক্তি।
‘স্বাধীন হাসপাতালে নেওয়া হয়নি’
ইমরানের শারীরিক পরীক্ষা নিয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বড় ছেলে সুলেইমান খান। তার অভিযোগ, পরিবারের আশঙ্কাই শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়েছে।
সুলেইমান বলেন, ‘বাবাকে কোনো স্বাধীন বেসরকারি হাসপাতালে না নিয়ে একটি সরকারি হাসপাতালে মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য নেওয়া হয়। সরকারি চিকিৎসকেরা সব ঠিক আছে বলে বাবাকে দ্রুত আবার কারাগারে ফেরত পাঠিয়ে দেন।’
তিনি আরও বলেন, শাফা হাসপাতালে চিকিৎসক এবং তাদের ফুপু, যিনি নিজেও একজন চিকিৎসক, অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু কাউকেই ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।
এমনকি বিভিন্ন আইনি বিধিনিষেধের কথা বলে সুলেইমান ও কাশিমকে পাকিস্তানে যাওয়ার ভিসা দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সাক্ষাৎকার ঘিরে লর্ডসে উত্তেজনা
এদিকে ইমরানের দুই ছেলের সাক্ষাৎকার সম্প্রচারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর লন্ডনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা গেছে, সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারের প্রতিবাদে লাঞ্চ বিরতির পর মাঠে নামতে অস্বীকৃতি জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তান দল। পরে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) মধ্যস্থতায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ক্ষুব্ধ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত শান মাসুদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান দল মাঠে নামে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
স্পোর্টস এর সর্বশেষ খবর