জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ফেসবুকে অসত্য, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর পোস্ট এবং মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী মো. তানজিম হোসেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ২টায় তিনি প্রক্টর কার্যালয়ে অভিযোগপত্র জমা দেন। তানজিম আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের (৫৩তম আবর্তন) শিক্ষার্থী।
অভিযোগপত্রে তানজিম হোসেন উল্লেখ করেন, একই আবর্তনের শিক্ষার্থী দিহান সাদনান হাসান তাঁর ব্যবহৃত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তাঁকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন মানহানিকর মন্তব্য ও পোস্ট করেছেন। এসব পোস্ট ও মন্তব্যে তাঁর সম্পর্কে অসত্য, ভিত্তিহীন ও সম্মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তানজিমের দাবি, কোনো ধরনের প্রমাণ বা তথ্যের সত্যতা যাচাই ছাড়াই তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ প্রচার করা হয়েছে। এর ফলে সহপাঠী, শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে তাঁকে নিয়ে নেতিবাচক ও ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি তাঁর স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন ও মানসিক স্বস্তিতেও প্রভাব ফেলছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ ধরনের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীর মানহানি করার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও আচরণবিধির ২ নম্বর ধারার ‘গ’ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘অসদাচরণ’-এর সংজ্ঞার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। অভিযোগের সমর্থনে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পোস্ট ও মন্তব্যের স্ক্রিনশট, পোস্টের লিংকসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সংযুক্ত করা হয়েছে।
তানজিম হোসেন বলেন, “দিহান আমার নামে যেভাবে পোস্ট দিয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে আমি নাকি রুমে কোনো মহিলা নিয়ে গিয়েছি। এরপর কমেন্টে লিখেছে, সম্প্রতি ১৪-১৫ বছরের একটি মেয়েকে আমার রুমে দেখেছে। অথচ ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর আমি গুরুতর অসুস্থ থাকায় আমার বাবা-মা আমাকে দেখতে হলে এসেছিলেন। তখন প্রভোস্ট স্যার ও হল প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে অল্প কিছু সময়ের জন্য তাঁরা আমাকে দেখতে এসেছিলেন।”
তিনি বলেন, “প্রায় এক বছর পর ওই ঘটনাটিকে এমনভাবে পোস্ট করা হয়েছে, যাতে আমার বিরুদ্ধে সবার মধ্যে বিরূপ ধারণা তৈরি হয়। এ ছাড়া আমাকে নেশাগ্রস্ত বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।”
তানজিম আরও বলেন, “কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়া কীভাবে সে এমন পোস্ট ও মন্তব্য করতে পারে? এ কারণে আমি প্রক্টর অফিসে অভিযোগ করেছি। আমাকে নিয়ে মানহানিকর পোস্ট ও মন্তব্যের কারণে আমার সম্মানহানি হয়েছে। আমি এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
এর আগে গত ২৫ আগস্ট দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে দিহান সাদনান হাসান লেখেন, “আইআর ৫৩-এর তানজিম কার সাহায্যে ছেলেদের হলের ৫ তলায় মহিলা মানুষ আনে? এই অথরিটি ওরে দিয়েছে কে?”
ওই পোস্টে তিনি হলের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং ছেলেদের আবাসিক হলে নারী প্রবেশের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
পোস্টে আরও লেখা হয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে নজরদারিতে রাখা এবং সন্দেহভাজন শিক্ষার্থীদের ডোপ টেস্ট করার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। পোস্টের শেষে হল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তানজিম ও সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তিকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
অভিযোগ জমা দেওয়ার বিষয়ে দিহান সাদনান হাসান বলেন, “অভিযোগ জমা দেওয়ার বিষয়টি আমি জানি না। প্রক্টর অফিস থেকে আমাকে জানানো হলে এ বিষয়ে আমি কথা বলতে পারব।”
নিজের ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে তিনি বলেন, “পোস্টের মাধ্যমে আমি আমার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি তুলে ধরেছি। ঘটনাটি নাকি গত বছরের ১১ নভেম্বরের, এটি তানজিম ওই পোস্টে নিজে কমেন্ট করে স্বীকার করেছে। তবে যতটুকু আমার মনে পড়ে, এটি সাম্প্রতিক আরেকটি কোনো ঘটনা।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর